1. admin@thecampusinsight.com : Campus :
  2. news@thecampusinsight.com : news :
শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা: মাহদী আমিন বঙ্গোপসাগর রক্ষার শপথ নিলেন শতাধিক তরুণ পরিবেশকর্মী উচ্চশিক্ষার সংকট নিরসনে অংশীজন সংলাপ ও শিক্ষক প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিচ্ছে ইউজিসি প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবলের ফাইনাল ২০ জুন, পুরস্কার দেবেন প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের অধিকার ও আন্দোলন সংগ্রামে জবি প্রেসক্লাবের ভূমিকা অগ্রগামী: উপাচার্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যুগান্তকারী পরিকল্পনা আছে: মাহদী আমিন নোবিপ্রবির নবনিযুক্ত উপ-উপাচার্য ড. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ৬ দফা দাবিতে জবি ক্যাম্পাসের সামনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের প্রকাশ্য কর্মসূচি জাতীয় মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রীয়ভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপনে ব্যাপক কর্মসূচি নিচ্ছে সরকার

সাম্প্রতিক ইস্যুতে নিরব জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, খেই হারাচ্ছে জাতীয় নেতৃত্ব তৈরিতে

  • প্রকাশিত : রবিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৫

মো. সিয়াম আবু রাফি :

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন ইস্যুতে প্রায়ই নীরব থাকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অন্য অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রীয় বা সামাজিক ঘটনাবলিতে সক্রিয় অবস্থান নেয়, তখন জগন্নাথে দেখা যায় নীরবতা। ফলে ধীরে ধীরে জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব বিকাশের ধারাতে দেখা দিচ্ছে স্থবিরতা।

রাজধানীর কেন্দ্রে অবস্থিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন আন্দোলন – সংগ্রামের সাক্ষী হলেও সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় রাজনীতি, মানবাধিকার, শিক্ষা নীতি বা সামাজিক ইস্যুতে নিশ্চুপ। উদাহরণসরুপ- মিরপুরে অগ্নিকান্ডের ঘটনা, শিক্ষকদের উপর পুলিশের অত্যাচার, জুলাই সনদ, পাথর উত্তোলন বিতর্ক, পাহাড়ে সহিংসতা, এছাড়াও বিভিন্ন ইস্যুগুলোতে নিরবতা প্রশ্ন তুলছে ভবিষ্যৎ জাতীয় নেতা তৈরিতে।

এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন , ” অনেক সময় প্রশাসনের ভয়ে শিক্ষার্থীরা নিজেদের মতামত প্রকাশ করে না। তাই চুপ থাকাই নিরাপদ মনে হয়।”

ছাত্র অধিকার পরিষদ জবি শাখার সভাপতি এ কে এম রাকিব বলেন : “আমরা চাই জাতীয় ইস্যুগুলো নিয়ে কথা বলতে, প্রতিবাদ করতে এবং যথাসম্ভব ভূমিকা রাখতেও যেমন গতকাল গাজীপুরে গণধর্ষণের প্রতিবাদ করেছি। তবে বাস্তবতা হলো, আমাদের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীসংশ্লিষ্ট একের পর এক ইস্যু লেগেই থাকে। তাই প্রতিটি জাতীয় ইস্যুতে নিয়মিতভাবে আওয়াজ তোলা আমাদের পক্ষে সবসময় সম্ভব হয় না। তবু আমরা চেষ্টা করি, যতটা পারা যায়।

জবি ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি আব্দুল আলিম আরিফ বলেন “পলিটিক্স বিষয়টাকে আমরা যেভাবে সংজ্ঞায়িত করি সেখানে বাস্তবতা সম্পূর্ণ আলাদা। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের কোরাম বা পলিটিক্যাল কোরাম মেইনটেইন করে অর্থাৎ তারা বাইরের কাউকে তাদের সাথে নিতে চায় না। উদাহরণ সরুপ এনসিপি, যারা এত বড় বিল্পবের পর একটা দল গঠন করলেও শুধুমাত্র ঢাবি কেন্দ্রিক ক্ষমতা কুক্ষিগত করার চিন্তাভাবনার কারণেই তারা বেশিদিন সাসটেইন করছেনা। অন্যান্য দলগুলো শুধুমাত্র কোরাম মেইনটেইন এর কারণে যোগ্য লোক থাকার পরও বাইরের কাওকে জাতীয় পর্যায়ে নিচ্ছেনা কিন্তু সেখানে আমাদের ছাত্রশিবিরের বর্তমান কেন্দ্রীয় সভাপতি এই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের।সাম্প্রতিক ইস্যু গুলোতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় যে একদম নিরব এমনটা না, ক্যাম্পাস পুরান ঢাকায় হওয়ায় প্রথম সারির জাতীয় সংবাদ মাধ্যম গুলো এখানে আসছেনা যে কারণে আমরা অনেক কর্মসূচি রাখলেও সেভাবে হাইলাইটস হচ্ছিনা।”

আপ বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সদস্য ও এক্টিভিস্ট তৌসিব মাহমুদ সোহান বলেন : ” জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিটি আন্দোলনে সবসময়ই প্রতিবাদ করে আসছে। শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীক সমস্যা নয়, রাষ্ট্রীয় সমস্যা গুলোতে যদি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবাদ না করে তাহলে কখনোই জাতীয় নেতৃত্ব তৈরি হবেনা। এইমুহুর্তে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় গুলো যেখানে রাষ্ট্রীয় বিষয় নিয়ে সচ্চার সেখানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এর শুধু মাত্র জকসু কেন্দ্রীক চিন্তাভাবনা থাকলে হবেনা,রাষ্ট্রীয় ইস্যু গুলোতেও সচ্চার হতে হবে।”

জবি ছাত্রদলের আহবায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন: ” জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে দেশের জন্য সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে নিয়ে সকল দাবি আদায়ে কাজ করে আসছে। ৫ আগস্ট পরবর্তী অনেকগুলো রাষ্ট্রীয় ইস্যুতে এবং দেশের যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে সেগুলোর বিরুদ্ধেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্দোলন করেছে। তবে সামনের দিনগুলোতে কিভাবে রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে রাষ্ট্রীয় পরিবর্তনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় তথা সকল সংগঠন নিয়ে কিভাবে আরও বেশি অবদান রাখা যায় সে বিষয়ে আরও বেশি খেয়াল রাখবো “

এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেজবাহ-উল-আজম সওদাগর বলেন, “ফ্যাসিবাদী আমলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা কোন বিষয়েই মত প্রকাশের কোন স্বাধীনতা পায় নাই। কিন্তু ফ্যাসিবাদী শাসনের পতনের পর ছাত্রদের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সমস্যা ও দাবি নিয়ে এত বেশি সময় দিতে হয়েছে যার ফলে অনেক জাতীয় ইস্যুতে তারা তাদের মতামত দিতে পারে নাই। এই সমস্যাটি সাময়িক। খুব শীঘ্রই এ সমস্যা কেটে যাবে এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা বাংলাদেশের জাতীয় ইস্যুতে তাদের মতামত ব্যক্ত করবে বলে আমি আশাবাদী।

শেয়ার করুন...

অন্যান্য...