নোবিপ্রবি প্রতিনিধি
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি) পরিচালিত “সহকারী প্রোগ্রামার” (৯ম গ্রেড) পদে নিয়োগে চরম অবিচারের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন নোবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থী মো. বোরহান উদ্দিন । প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইভাসহ সকল ধাপ সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়ে মেধাক্রমে প্রথম স্থান অধিকার করার পরও প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে নিজের নাম না পাওয়ায় তিনি স্তব্ধ ও আশাহত।
তিনি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) কম্পিউটার সাইন্স এন্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী।
সহকারী প্রোগ্রামার পদের সার্কুলারটি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে,বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) কর্তৃক ২০২১ সালে প্রকাশিত হয়। এরপর ২০২২ ও ২০২৩ সালে প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৫ সালের ৮ জুলাই বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের মাধ্যমে সুপারিশপ্রাপ্ত হন মোট ৪ জন, মেধাক্রমে ভুক্তভোগী প্রথম ছিলেন। পরবর্তীতে ,২০২৬ সালের ১’লা জানুয়ারী প্রজ্ঞাপনে তার নাম আসেনি।
ভুক্তভোগীর ভাষ্যে, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পুলিশ ভেরিফিকেশন কোনো আপত্তি ছাড়াই সম্পন্ন হওয়ার পরও হঠাৎ করে প্রজ্ঞাপনে তার নাম বাদ পড়া প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, মামলা বা কোনো অপরাধমূলক ইতিহাস নেই,এসব স্পষ্ট করেও তিনি ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি করেন।
প্রজ্ঞাপনে নাম না থাকার ব্যাপারে জানতে চাইলে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম বলেন, “কমিশন ৪ জনকে সুপারিশ করেছিলো,কিন্তু সুপারিশের পরও কিছু ধাপ থাকে। পুলিশ ভেরিফিকেশন এবং স্বাহ্য পরীক্ষা। তার পুলিশ ভেরিফিকেশনে হয়তো সমস্যা ছিলো। আমার কাজ শুধু সুপারিশ করা, এর বাহিরে এখতিয়ার আমার নেই”।
পুলিশ ভেরিফিকেশনের ব্যাপারে কুমিল্লা ডিএসবি অফিসের পুলিশ ভেরিফিকেশনের দায়িত্বে থাকা এস আই রাহেলাকে জিজ্ঞেস করলে বলেন, ” ভেরিফিকেশনের ব্যাপারে আমরা আবেদন ব্যতিত কিছু বলতে পারবো না। যদি মনে হয় ভেরিফিকেশনে সমস্যা তাহলে অভিযোগকারী পুনঃবিবেচনার জন্য আবেদন করতে পারে। তখন পূনরায় জানা যাবে”।
নোবিপ্রবির কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসটিই) বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নাহিদ আক্তার বলেন, আমাদের এই শিক্ষার্থী পরীক্ষায় প্রথম হয়েও বাদ পড়েছে- ব্যাপারটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমার জানামতে আমাদের এই শিক্ষার্থীর কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে কখনোই সংশ্লিষ্টতা ছিল না। তার সাথে এ ব্যাপারে অন্যায়- অবিচার হয়েছে। আমি চাই তার ব্যাপারে পুনরায় সুষ্ঠুভাবে ভ্যারিফিকেশন হোক এবং সেই সাপেক্ষে যথাযথ কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিক।
ভুক্তভোগীর ব্যাপারে জানতে চাইলে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নোয়াখালী জেলার সাবেক সমন্বয়ক ও নোবিপ্রবির শিক্ষার্থী বনী আমিন বলেন, “আমি যতটুকু খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পেরেছি, ওনার সাথে লীগের সংশ্লিষ্টতা একদমি ছিলোনা। যদি প্রশাসনে কাছে কোনো প্রমাণ থেকে থাকে তাহলে তারা তুলে ধরুক। যে বৈষম্য ঠেকাতে এই জুলাই ঘটেছে, জুলাই পরবর্তী সময়ে এসে একই বৈষম্যের পুনরাবৃত্তি আমরা চাইনা। যিনি সবচেয়ে যোগ্য তাকে তার যোগ্যতা অনুযায়ী সঠিক মূল্যায়ন করা জরুরি বলে মনে করছি। তাছাড়া, প্রশাসনের একশান নেয়ার মতো আরো অনেক বিষয় আছে, আওয়ামী আমলে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে অনেক নিয়োগ হয়েছে। সেগুলোকে তারা আইডেন্টিফাই করে আইনানুগ ব্যাবস্হা নিক।
সোশ্যাল মিডিয়া এক্টিভিস্ট ও নোবিপ্রবির ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের সিএসটিই বিভাগের শিক্ষার্থী আসিফ মাহমুদ বলেন, বোরহান ভাই আমার সিনিয়র ব্যাচের ভাই। উনি কোরআনের হাফেজ। খুবই ভদ্র আর মার্জিত মানুষ হওয়ায় প্রায় সব জুনিয়র ব্যাচই তাকে খুব পছন্দ করে। তিনি মেধাবী এবং পরিশ্রমী, যেটার ফলাফল হিসেবে উনি অল্প সময়েই অনেকগুলো চাকরির অফার পেয়েছেন। ক্যাম্পাসে উনি কোনো রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন না। এসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রামার হিসেবে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চারজনের মধ্যে প্রথম হলেও পরবর্তীতে উনাকে বাদ দিয়ে বাকি তিনজনের নামে গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। এইটা খুবই দুঃখজনক। ফ্যাসিবাদ পরবর্তী বাংলাদেশে বৈষম্য থেকে মুক্তির জন্য সংগ্রাম আমাদের, সেখানে মেধাবী শিক্ষার্থীদের সাথে এমন বৈষম্য মেনে নেয়া যায় না।
ভুক্তভোগীর সাথে এমন কান্ডে তোলপাড় নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের মাঝে। ভুল বা ভুয়া ভেরিফিকেশনে যেন কোন শিক্ষার্থীর স্বপ্নভঙ্গ না হয় এমনই প্রত্যাশা তাদের।