তাওফিকুল হাসান তুরাব
ডিআইইউ প্রতিনিধি
ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ডিআইইউ) ইংরেজি, সমাজবিজ্ঞান ও ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের যৌথ নবীনবরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৫ নভেম্বর, বিশ্ববিদ্যালয়ের এসটিসি ভবনে। নতুন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানাতে আয়োজনটি ঘিরে সৃষ্টি হয় উচ্ছ্বাসমুখর পরিবেশ। অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে নবীনবরণ অনুষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোর্ড অব ট্রাস্টিজের (বিওটি) সদস্য অ্যাডভোকেট শাহেদ কামাল পাটোয়ারী। তিনি নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আজকের এই ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম তোমাদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম দিন। এখান থেকেই শুরু হবে নতুন যাত্রা।” তিনি আরও বলেন, “তোমরা যদি ভালো মানুষ হতে পারো, তবে ভালো ছাত্র হওয়া সহজ হবে। নীতি, নৈতিকতা ও মানবিকতা একজন মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি।” তাঁর বক্তৃতায় তিন বিভাগের শিক্ষা–দর্শন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মশৃঙ্খলা এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি বিষয়ে দিকনির্দেশনা উঠে আসে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রো–ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. গণেশ চন্দ্র সাহা, ট্রেজারার প্রফেসর ড. এ. টি. এম. মাহবুবুর রহমান সরকার, প্রক্টর ও প্রভোস্ট প্রফেসর ড. সাজ্জাদ হোসেন, কলা ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. শওকত আরা হোসেন, ছাত্র কল্যাণ উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ শাহ আলম চৌধুরী, ইইই বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর আ. বাসেত, ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক আরিফ আহমাদ এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক জমসেদুর রহমান।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জাহিদুল ইসলাম। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয় হোক মুক্তচিন্তার একটি জায়গা, যেখানে জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ গড়ে উঠবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “আমাদের লক্ষ্য এমন একটি শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে মাদক, ধূমপান ও অস্বাস্থ্যকর রাজনীতির কোনো স্থান থাকবে না।”
নবীনদের বরণ করতে ফুল প্রদান করা হয়, যার মাধ্যমে তাদের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তরিকতা ও শুভকামনার প্রকাশ ঘটে। তিন বিভাগের শিক্ষার্থীরা নিজেদের পরিচিতি ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য তুলে ধরে অংশ নেয় ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশনে। যদিও সাংস্কৃতিক পর্ব ছিল না, তবুও পুরো অনুষ্ঠান জুড়ে উচ্ছ্বাস ও প্রাণচাঞ্চল্যের ছাপ ছিল স্পষ্ট। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা ও সমন্বয় করেন ছাত্র কল্যাণ উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ শাহ আলম চৌধুরী। এতে ১০০–এর অধিক নবীন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে এবং তিন বিভাগের শিক্ষক–শিক্ষিকারাও উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থী দিয়া বলে, “বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিনটিকে এত সুন্দরভাবে সাজানো হবে ভাবিনি। মনে হচ্ছে নতুন এক যাত্রার দরজা খুলে গেল।” আরেক সিনিয়র শিক্ষার্থী রাফি বলেন, “ডিআইইউতে পড়াশোনার পাশাপাশি মূল্যবোধ শেখানোর যে প্রচেষ্টা, তা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।”
ভাইস চ্যান্সেলরের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে সন্ধ্যা ছয়টায় নবীনবরণ অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। নতুন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ক্যাম্পাসে প্রাণ ফিরে আসে এবং নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয় তিন বিভাগের নতুন ব্যাচের জন্য।