1. admin@thecampusinsight.com : Campus :
  2. news@thecampusinsight.com : news :
বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০১:১১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যুগান্তকারী পরিকল্পনা আছে: মাহদী আমিন নোবিপ্রবির নবনিযুক্ত উপ-উপাচার্য ড. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ৬ দফা দাবিতে জবি ক্যাম্পাসের সামনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের প্রকাশ্য কর্মসূচি জাতীয় মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রীয়ভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপনে ব্যাপক কর্মসূচি নিচ্ছে সরকার সনদনির্ভর নয়, দক্ষ ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে দক্ষতাভিত্তিক উচ্চশিক্ষার কেন্দ্রে রূপান্তরের কথা জানিয়েছেন মাহদী আমিন শেরে বাংলার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাবিতে ছাত্রদলের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি আন্তর্জাতিক বৃত্তি-ফেলোশিপে শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য সরকারের নানামুখী উদ্যোগ হিট প্রকল্প দেশের উচ্চশিক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে: ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ

সনদনির্ভর নয়, দক্ষ ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী

  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে সনদনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে দক্ষতাভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর, বাস্তব ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

তিনি বলেছেন, “চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, এআই এবং অটোমেশনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রচলিত শিক্ষা কারিকুলামকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করার কোনো বিকল্প নেই।”

আজ রোববার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত ‘কর্মমুখী ও টেকনিক্যাল শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ’ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময়ের ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণ শুধু দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকারই কেড়ে নেয়নি, সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোকেও অকার্যকর করে দিয়েছে। একই সঙ্গে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকেও বিপর্যস্ত করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে এবার আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর পালা।”

একটি জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ অর্জন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে যারা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় আত্মত্যাগ করেছেন, তাঁদের অবদানকে সম্মান জানাতে হলে শিক্ষা-দীক্ষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। তা না হলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে।

উচ্চশিক্ষা বিস্তারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে ২ হাজারের বেশি অধিভুক্ত কলেজে বর্তমানে ৪০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাপনার সংকট নিরসন এবং সবার জন্য শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে ১৯৯২ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। দেশের আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর উচ্চশিক্ষা বিস্তারে এই প্রতিষ্ঠানটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অটোমেশন ও এআই-চালিত প্রযুক্তির কারণে অনেক পুরোনো পেশা ঝুঁকির মুখে পড়লেও নতুন অনেক কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হচ্ছে। এই প্রযুক্তিগত পরিবর্তন মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার সিকিউরিটি, প্রোগ্রামিং, ডিজিটাল এন্টারপ্রেনারশিপ, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ন্যানো টেকনোলজি এবং ফাইভ-জি প্রযুক্তির মতো বিষয়গুলো শিক্ষা কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।

তিনি জানান, বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে প্রাথমিক স্তর থেকে সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত শিক্ষাক্রমকে বাস্তবভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার কাজ শুরু করেছে।

উচ্চশিক্ষিতদের বেকারত্ব কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সর্বোচ্চ একাডেমিক সনদ অর্জন করলেও প্রায়োগিক দক্ষতার অভাবে অনেকেই কর্মসংস্থানের বাইরে থেকে যাচ্ছেন। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকার এপ্রেন্টিসশিপ, ইন্টার্নশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে। প্রাথমিকভাবে বিভাগীয় শহরগুলোতে এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি কর্মদক্ষতা অর্জন করতে পারেন।

তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্যাম্পাস থেকেই ব্যবসায়িক উদ্যোক্তা তৈরি করতে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইনোভেটিভ বিজনেস আইডিয়া’ বাণিজ্যিকীকরণের লক্ষ্যে প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় ‘সিড ফান্ডিং’ বা ‘ইনোভেশন গ্র্যান্ট’ প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে তরুণরা চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেরাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে।

প্রযুক্তির পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “একজন মানবিক মানুষ হয়ে ওঠার জন্য নৈতিক শিক্ষার বিকল্প নেই। দক্ষতা ও আধুনিকায়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও পরিবেশ সংরক্ষণের প্রতি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আরও যত্নশীল হতে হবে।”

বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় আরেকটি ভাষা শেখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীরা যদি তৃতীয় ভাষায় দক্ষতা অর্জন করতে পারেন, তাহলে দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়বে।

শিক্ষকদের সমাজ পরিবর্তনের অগ্রদূত ও রোল মডেল হিসেবে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ছাত্র ও যুবশক্তিকে প্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা গেলে সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিশ্বের রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

জাতীয় উন্নয়নকে একটি সম্মিলিত যাত্রা হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনে বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, নাগরিক সমাজ এবং শিল্পখাতসহ সংশ্লিষ্ট সবার ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতা কামনা করেন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ এস এম আমানুল্লাহ’র সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান।

শেয়ার করুন...

অন্যান্য...