মো. সিয়াম আবু রাফি (জবি প্রতিনিধি) :
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় গেটের সামনে ৬ দফা দাবি তুলে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় গেটের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে ব্যবহৃত পোস্টারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয়, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের ছবি দেখা যায়।
কর্মসূচি থেকে সংগঠনটির পক্ষ থেকে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সারাদেশে ছাত্রলীগের শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারাদেশ ও তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, কোটা আন্দোলনের নামে দলীয় নিয়োগ বন্ধ, ছাত্রলীগের রাজবন্দিদের শোন অ্যারেস্ট বন্ধ করে নিঃশর্ত মুক্তি এবং নারী ও শিশু হত্যা, ধর্ষণ, মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতন ও অনলাইনে নারী হেনস্তার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক লাঞ্ছনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা এবং শিক্ষকদের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে হামের টিকার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ইউনূসের শাস্তির দাবিও তোলা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আশিক-ই-আতাহার মেসবাহ এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান নেতৃত্ব দেন।
এ বিষয়ে আশিক-ই-আতাহার মেসবাহ বলেন, ঐতিহাসিক ৬ দফা ছিল বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ। সেই চেতনাকে ধারণ করেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ৬ দফা মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মী, শিক্ষার্থী ও স্বাধীনতার পক্ষের শিক্ষকরা হামলা-মামলার শিকার হয়ে শিক্ষা ও স্বাভাবিক কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। নারী ও শিশু নির্যাতন, অনলাইন হয়রানি এবং বিভিন্ন অনিয়মের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে মিথ্যা দাবি করে তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইব্রাহিম ফরাজি বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে নেই। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সংগঠনের কার্যক্রম বন্ধ করা যাবে না। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের উত্থাপিত ছয় দফা দাবিকে যৌক্তিক উল্লেখ করে তিনি কর্মসূচি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানান।
ঘটনার বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, “আজকের ঘটনার বিষয়ে আমি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নই। তবে এর আগেও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্টতায় এ ধরনের ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে তথ্য নিচ্ছি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন সংস্থাকেও অবহিত করেছি, যাতে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।”
তিনি আরও বলেন, “প্রকাশিত ভিডিওতে কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা দেখা যাচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করা গেলে এবং গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
উল্লেখ্য, দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপরও দেশের বিভিন্ন স্থানে সংগঠনটির ব্যানারে বিচ্ছিন্ন কর্মসূচি পালনের ঘটনা সামনে আসছে।