সাব্বির রহমান রাব্বীল
যবিপ্রবি প্রতিনিধি
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) প্রথমবারের মতো প্রতিটি বিভাগ থেকে মেধাবী শিক্ষার্থীদেরকে আল-খাওয়ারিজমি একাডেমিক এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়েছে। যবিপ্রবির ইসলামিক কালচারাল সোসাইটির উদ্যোগে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের সকল বিভাগের শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ফলাফল অনুযায়ী ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান অর্জনকারী মোট ৯৩ জন শিক্ষার্থী এই অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হন।
বুধবার (৩ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে ইসলামিক কালচারাল সোসাইটি কর্তৃক আয়োজিত কাওয়ালী সন্ধ্যা ও পুঁথি পাঠ অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল মজিদ শিক্ষার্থীদের হাতে অ্যাওয়ার্ড তুলে দেন।
পাশাপাশি নবীন বরণ, অনলাইনে আয়োজিত সীরাত কুইজ ও সীরাত কার্নিভালের বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ, কাওয়ালী সন্ধ্যা ও পুঁথিপাঠ অনুষ্ঠানে আগত অতিথি শিল্পীগোষ্ঠীদের সংগীত পরিবেশন ছিল এ আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ।
সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অতিথি শিল্পীগোষ্ঠী হিসেবে সংগীত পরিবেশন করেন যশোর সাংস্কৃতিক সংসদ, অদম্য সাংস্কৃতিক সংসদ, তরঙ্গ শিল্পীগোষ্ঠী, ব্যতিক্রম সাংস্কৃতিক সংসদ।
ফিশারিজ এন্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী মো: আশিকুর রহমান বলেন, প্রচলিত পশ্চিমা কালচার থেকে সমাজকে রক্ষা করতে ইসলামিক কালচারাল সোসাইটির পদক্ষেপ সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী ও বিজ্ঞানমনস্ক করতে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহন করেছে ক্লাবটি। হামদ, নাত, সিরাত পাঠসহ নানা আয়োজনে শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করেছেন। ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের বিভাগীয় তিনজন সেরা ফলাফল কারীদের পুরস্কৃত করছেন ক্লাবটি। এতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার প্রতি আরো মনোযোগী হবে। কাওয়ালী সন্ধ্যার মত সুস্থ বিনোদন গুলো আমাদের মাঝে ইসলামী ভাবধারাকে আরও সমৃদ্ধ করে।
ইসলামিক কালচারাল সোসাইটির সভাপতি জালিস মাহমুদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কৃতির ধারণাকে বিকৃত ও সীমাবদ্ধভাবে দেখানোর ফলে ‘কালচার’ শব্দটি সাধারণ মানুষের কাছে ভুল অর্থে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এই অনুষ্ঠান সেই ভুল ধারণা ভাঙতে এবং মাটি, মানুষ, শেকড় ও ইসলামী সভ্যতার সৌন্দর্যকে সামনে আনতে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হয়েছে বলে মনে করি। আমরা প্রথমবারের মতো ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের প্রতিটি বিভাগের শীর্ষ তিন শিক্ষার্থীকে ‘আল-খাওয়ারিজমি একাডেমিক এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করেছি। যাতে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা ও গবেষণার প্রতি উদ্বুদ্ধ হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. হোসেন আল মামুন, ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. ইঞ্জি. ইমরান খান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডীন মোঃ আমজাদ হোসেন ড. ইঞ্জি. , পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তানভীর আহমেদসহ অন্যান্য শিক্ষকরা।