আবিপ্রবি প্রতিনিধি
বাংলাদেশের প্রকৌশল শিক্ষার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (AUST)-এর সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য ২০২৬ সালের বসন্ত হয়ে উঠেছিল এক স্মরণীয় অধ্যায়। “একাত্মতার অনুরণন”—একটি বহুমাত্রিক, বহুদিনব্যাপী উৎসব—যা শুধু একটি ইভেন্ট নয়, বরং ছিল জ্ঞান, উদ্ভাবন, পেশাগত উন্নয়ন এবং আন্তঃসম্পর্কের এক শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম।
একাত্মিক ’৪৮ এবং ব্যাচ ৫৩-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই ফ্ল্যাগশিপ অনুষ্ঠানটি ৩১ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। AUST ক্যাম্পাস এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই আয়োজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কমিউনিটির মধ্যে নতুন উদ্দীপনা এবং সংযোগের সেতুবন্ধন গড়ে তোলে।
৩১ মার্চ AUST ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল নিজেদের সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণী ক্ষমতা এবং প্রকৌশল জ্ঞান প্রদর্শনের এক সুবর্ণ সুযোগ। একাডেমিক চ্যালেঞ্জ ও উদ্ভাবনী চিন্তার এই মঞ্চে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দিয়ে বিভাগীয় সেরার খেতাব অর্জনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।
১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ক্যারিয়ার টক ছিল শিক্ষার্থীদের জন্য কর্পোরেট বিশ্বের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এখানে অংশগ্রহণ করে তরুণ মেধাবীদের সামনে তুলে ধরে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত।
এই পর্বের বিশেষ আকর্ষণ ছিল “Innovations in Construction Chemicals for Sustainable Infrastructure” শীর্ষক একটি সময়োপযোগী সেমিনার। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফেয়ারমেট কেমিক্যালস বিডি লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার দেবাশিস বড়ুয়া। তার আলোচনায় উঠে আসে টেকসই অবকাঠামো নির্মাণে আধুনিক কনস্ট্রাকশন কেমিক্যালসের ভূমিকা, যা ভবিষ্যৎ প্রকৌশলীদের জন্য ছিল অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক ও প্রাসঙ্গিক।
৬ এপ্রিল বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয় এই আয়োজনের বর্ণাঢ্য সমাপনী অনুষ্ঠান। এটি ছিল একদিকে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা, অন্যদিকে সাংস্কৃতিক উচ্ছ্বাসে ভরা এক স্মরণীয় সন্ধ্যা।
এই মহিমান্বিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. শামীম জেড. বসুনিয়া—একজন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও অনুপ্রেরণার প্রতীক। তার উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে আরও গৌরবময় করে তোলে এবং নবীন ও প্রবীণ প্রজন্মের মধ্যে এক সেতুবন্ধন তৈরি করে।
সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, সঙ্গীত এবং আবেগঘন মুহূর্তগুলো মিলিয়ে সমাপনী আয়োজনটি হয়ে ওঠে সত্যিই “একাত্মতার অনুরণন”-এর এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।
“একাত্মতার অনুরণন ২০২৬” প্রমাণ করেছে যে একটি সুপরিকল্পিত আয়োজন কেবল বিনোদনই দেয় না, বরং তা শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জ্ঞান, সৃজনশীলতা, নেটওয়ার্কিং এবং আবেগ—সবকিছুর এক অনন্য সমন্বয় ছিল এই উৎসব।
এটি নিঃসন্দেহে AUST সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পরিবারের জন্য একটি মাইলফলক, যা আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।