খাইরুল ইসলাম মুন্না
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি (অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়)
অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (এডাস্ট) জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের উদ্যোগে ২৮ নভেম্বর,২০২৫ (শুক্রবার)
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে “জেএমএস বিজনেস ফেয়ার (JMS Business Fair)” অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত এই মেলা মুখরিত ছিল শিক্ষার্থীদের পদচারণায়।
জার্নালিজম বিভাগের একটি কোর্স ‘বিজনেস অ্যান্ড কর্পোরেট কমিউনিকেশন’-এর তাত্ত্বিক জ্ঞানকে বাস্তবে প্রয়োগ করানোর লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়।
জেএমএস বিজনেস ফেয়ার পরিদর্শন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। তিনি শিক্ষার্থীদের এই প্রয়াস দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও এমন বাস্তবমুখী কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। উপাচার্যের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন এগ্রিবিজনেস বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোঃ মোশাররফ হোসেন। তাঁরা স্টলগুলো ঘুরে দেখেন এবং শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিতে বিভিন্ন স্টল থেকে পণ্য ক্রয় করেন।
আয়োজনে মাঠে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের দিকনির্দেশনা দেন জার্নালিজম বিভাগের কো-অর্ডিনেটর জুবায়ের আহমেদ, প্রভাষক কেয়া বোস ও প্রভাষক ফরহাদ আহমেদ। তাঁরা তিনজন শিক্ষার্থীদের স্টল সাজানো, পণ্য উপস্থাপন, ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ, বিক্রয় কৌশলসহ ব্যবসা পরিচালনার নানা বিষয় হাতে-কলমে শেখান।
ফেয়ারে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্টল নিয়ে অংশ নেয় এবং নিজেদের প্রস্তুত করা বিভিন্ন পণ্য উপস্থাপন করে। দেশি হাঁস ভুনা ও চালের রুটি, বগুড়ার দই, নুডুলস, পায়েস, পুডিং, দুধ-চিতই পিঠা, বইসহ নানা ধরনের পণ্য ক্রেতাদের আকৃষ্ট করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা স্টল পরিদর্শন করে পণ্য ক্রয় করেন।
ফেয়ারে অংশ নেওয়া জার্নালিজম বিভাগের ৪র্থ ব্যাচের শিক্ষার্থী ইমাম হাসান বলেন, ক্লাসে পড়া বিজনেস অ্যান্ড কর্পোরেট কমিউনিকেশন আজ বাস্তবে প্রয়োগ করতে পেরে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। এ আয়োজন আমাদের ব্যবসা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিয়েছে এবং বাস্তব পরিস্থিতিতে কাজ করার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।
আরেক শিক্ষার্থী রিয়া জানান, এতদিন বাইরে কিছু বিক্রি করতে লজ্জা লাগত, কিন্তু প্র্যাকটিক্যাল মাঠে এসে সেই লজ্জা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে।
এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের ব্যবসা ও কর্পোরেট যোগাযোগ বিষয়ে তাত্ত্বিক জ্ঞানকে বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখার সুযোগ করে দেয়। শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতা বৃদ্ধি করে এবং ভবিষ্যতে পেশাজীবনে এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন জার্নালিজম বিভাগের শিক্ষকরা।