আরাফাত কাদির
নিটার প্রতিনিধি
গত শুক্রবার ও শনিবার (২১ ও ২২ নভেম্বর) ৩২ ঘন্টায় ব্যবধানে ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ৪ বার ভূ-কম্পন অনুভূত হয়। ভূ-কম্পনে ফলে নিটারের ছাত্রী হোস্টেলের ভবনের বিভিন্ন জায়গায় ফাটল দেখা দেয় এবং এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
গত শুক্রবারের (২১ নভেম্বর) ভূমিকম্পের পর সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে নিটারের ছাত্রী হোস্টেলে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হলের মেঝে এবং বিভিন্ন কক্ষের দেয়ালে বড় আকারের ফাটল দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে জানালা ও দরজার উপরের অংশে এবং মেঝের ফাটল শিক্ষার্থীদের ভীত করে তুলেছে। তবে শনিবারের ৩ টি ভূমিকম্পে ফলের ফাটলগুলো আরো দৃশ্যমান হয়। গতদিনের ভূমিকম্পে যতটুকু ফাটল ধরেছে আজকে ওইসব জায়গা আরো ফেটে গেছে আরো গাড়োভাবে ফেটে গেছে। মেয়েদের হলের ৩তালার অবস্থা সবচেয়ে খারাপ বিশেষ করে কমন রুম, রিডিং রুম , রুম নম্বর ৩০০৪ এবং ৩০০৫ এর অবস্থা চোখে পড়ার মত।৩০০৫ রুমের মেঝের ফাটলটি আরো বড় হয়েছে , ফাটা জায়গা দিয়ে পানি দিলে পানি সাথে সাথে নিচে চলে যাচ্ছে।তারা বর্তমানে আতঙ্কিত অবস্থায় হলে অবস্থান করছে।
নিটারের ছাত্র হোস্টেলর ভবনটি বেশ পুরনো। হলের শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, সেখানে তারা মাসের পর মাস ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকছেন। ভবনের অবস্থা নিয়ে তারা খুবই আতঙ্কিত । হলটিতে মাঝে মাঝে পলেস্তার খসে পড়ার ঘটনা ঘটে। হলটির কয়েকটি কক্ষের দেয়ালের আগে থেকেই কিছু ফাটল ছিল ফলে ভূমিকম্পের পরে শিক্ষার্থীতে আতঙ্ক আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ ঘটনায় যদিও কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি তবে ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে এখনো চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে। পরবর্তীতে এমন দুর্যোগে হলের এই ভবনগুলো টিকে থাকার কতটুকু সক্ষমতা রাখে তা নিয়ে তারা প্রশ্ন তোলেন। তাই ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান তারা।
এ পরিস্থিতি বিবেচনায় হোস্টেল ও শ্রেণীকক্ষের অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য ২৪ থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত সাময়িকভাবে প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।