1. admin@thecampusinsight.com : Campus :
  2. news@thecampusinsight.com : news :
মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সাংবাদিক বিজনকে দমনে অনলাইন জুয়া সিন্ডিকেটের ‘সস্তা’ অপপ্রচার: ফেক আইডি ও সাজানো নাটকের পর্দা ফাঁস বুটেক্সে দ্বিতীয় ধাপের ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন পবিপ্রবিতে কম্বাইন্ড ডিগ্রি ইস্যুতে এএইচ ডিসিপ্লিনের শিক্ষকদের ক্লাস-পরীক্ষা বয়কট জাবি প্রেসক্লাবের নব নেতৃত্বে তাওহীদ ও ওসমান বুটেক্সে টেক্সটাইলের ভ্যালু-অ্যাডেড ট্রেড নিয়ে আন্তর্জাতিক গবেষণা সেমিনার অনুষ্ঠিত নোবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও গণ ইফতার অনুষ্ঠিত মানবিক কার্যক্রম নিয়ে অপপ্রচার: তীব্র নিন্দা সিএফএইচের বুটেক্সে ছাত্ররাজনীতি বিরোধী বিক্ষোভ, অতপর সাধারণ শিক্ষার্থীর বেশে হলে ছাত্রদলের ইফতার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে মেহেরপুরে সর্বস্তরের শ্রদ্ধাঞ্জলি, অনুপস্থিত জামায়াত জোটের নবনির্বাচিত এমপিরা অপপ্রচারের প্রতিবাদে নোবিপ্রবি’র ৪৯ শিক্ষকের বিবৃতি

সোনাদিয়া: ছোট দ্বীপে বড় ভূরাজনীতি

  • প্রকাশিত : শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২৫

সৈয়দ জুল আর্শিল


বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত নয় বর্গকিলোমিটারের ক্ষুদ্র দ্বীপ সোনাদিয়া — ভৌগোলিকভাবে ছোট হলেও, কূটনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক দিক থেকে এর ওজন দিন দিন বাড়ছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক জার্নাল Discover Geoscience-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় জানা গেছে, দ্বীপটির মাটির নিচে রয়েছে বিপুল পরিমাণ মূল্যবান খনিজ—ইলমেনাইট, গারনেট, রুটাইল, জিরকন, মোনাজাইট ও ম্যাগনেটাইট, যার মোট পরিমাণ প্রায় ৭ লক্ষ টন।
এই খবর প্রকাশের পর শুধু বাংলাদেশের গবেষক বা অর্থনীতিবিদ নয়, আন্তর্জাতিক পরাশক্তিগুলোর দৃষ্টি এখন স্থির হয়েছে এই দ্বীপের দিকে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সোনাদিয়া এখন বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক ভূরাজনীতির নতুন অক্ষ।
কারণ দ্বীপটির অবস্থান এমন এক স্থানে, যা ভারত মহাসাগর, আন্দামান সাগর এবং চীনের সমুদ্রপথের মাঝে একটি কৌশলগত করিডর তৈরি করে।
চীনের দৃষ্টিতে, সোনাদিয়া হচ্ছে “মেরিটাইম সিল্ক রোড”-এর সম্ভাব্য একটি নোড।
ভারতের উদ্বেগ, এটি যেন কোনো বিদেশি ঘাঁটি বা চীনা বিনিয়োগকেন্দ্র না হয়ে ওঠে, কারণ এটি ভারতের আন্দামান উপকূল থেকে অল্প দূরত্বে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় বাংলাদেশের এই ভৌগোলিক অবস্থানকে নতুন কৌশলগত সম্পদ হিসেবে দেখছে।

গবেষণা বলছে, দ্বীপের বালুতে থাকা গারনেট ও ইলমেনাইটের ঘনত্ব পৃথিবীর অনেক উপকূলীয় অঞ্চলের তুলনায় বেশি।গারনেট ব্যবহৃত হয় ওয়াটার জেট কাটিং, স্যান্ডব্লাস্টিং ও পলিশিং শিল্পে, আর ইলমেনাইট থেকে তৈরি হয় টাইটানিয়াম ডাই-অক্সাইড, যার বৈশ্বিক বাজারমূল্য বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ যদি এই সম্পদ উত্তোলন ও প্রক্রিয়াকরণে সক্ষমতা অর্জন করতে পারে, তবে এটি হতে পারে দেশের ব্লু ইকোনমির নতুন স্তম্ভ। কিন্তু এর বিপরীতে, বিদেশি প্রভাবের প্রশ্নে কূটনৈতিক চাপও বাড়ছে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা বলছেন, বাংলাদেশের জন্য এখন মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সার্বভৌম অর্থনৈতিক মালিকানা রক্ষা ও ভূরাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ বোদরুদ্দোজা মিয়া বলেন, “সোনাদিয়াসহ দেশের দ্বীপ ও নদীবাহিত চরগুলোতে মূল্যবান খনিজ আছে, তবে এগুলো নিয়ে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক গবেষণা করা উচিত নয়। এখানে রেয়ার আর্থ এলিমেন্ট থাকতে পারে, যা অত্যন্ত সংবেদনশীল সম্পদ। প্রথমেই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা গড়ে তোলাই হবে বিচক্ষণ পদক্ষেপ।”
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, এই মুহূর্তে বাংলাদেশের উচিত জাতীয় খনিজ নীতি পুনর্গঠন, নিজস্ব গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়ন, এবংবিদেশি বিনিয়োগে রাষ্ট্রীয় অংশীদারিত্ব বাধ্যতামূলক করা। নয়তো, সোনাদিয়ার মতো দ্বীপ ভবিষ্যতে পরিণত হতে পারে কৌশলগত নির্ভরশীলতার কেন্দ্রে।


বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সোনাদিয়া ইস্যু ইতিমধ্যেই নতুন মাত্রা পেয়েছে।
বিগত সরকারের আমলে দ্বীপটিতে ইকো-ট্যুরিজম পার্ক গড়ার উদ্যোগ নেয়া হলেও, হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের পর বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে স্থগিত রয়েছে। এদিকে, ভারত ও চীন উভয়ই বিনিয়োগ প্রস্তাবের মাধ্যমে নিজেদের উপস্থিতি টিকিয়ে রাখতে চাইছে। যুক্তরাষ্ট্রের নজরও মূলত এই অঞ্চলের সমুদ্রপথ ও জ্বালানি নিরাপত্তাকে ঘিরে।
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী বছরগুলোতে সোনাদিয়া হতে পারে বঙ্গোপসাগরভিত্তিক নতুন কূটনৈতিক প্রতিযোগিতার সূচনা বিন্দু।
বাংলাদেশ যদি এখানে স্বাধীন অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে দৃঢ়তা দেখাতে পারে, তবে এটি শুধু অর্থনৈতিক নয়, কৌশলগত সার্বভৌমত্বের প্রতীক হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হবে।

সোনাদিয়া এখন শুধুই একটি দ্বীপ নয়; এটি বাংলাদেশের কূটনৈতিক আত্মপরিচয়ের পরীক্ষাক্ষেত্র।
যেখানে একদিকে রয়েছে বিশ্বশক্তির স্বার্থ, অন্যদিকে বাংলাদেশের আত্মনির্ভরতার সুযোগ।
এই ভূখণ্ডে লুকিয়ে আছে একটি মৌলিক প্রশ্ন —
বাংলাদেশ কি তার সম্পদের মালিকানা নিজ হাতে রাখতে পারবে, নাকি অন্যদের কৌশলের অংশ হয়ে যাবে?

শেয়ার করুন...

অন্যান্য...