সাব্বির রহমান রাব্বীল, যবিপ্রবি প্রতিনিধি:
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শুধু জ্ঞানার্জনের জন্যই শিক্ষার্থীরা আসেনা। শিক্ষার্থীদের জন্য সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক চর্চার ক্ষেত্র বাড়ানোর জন্যও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মূখ্য ভুমিকা পালন করে থাকে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য নেতৃত্বের গুণাবলী, গণতন্ত্রের অনুশীলন এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ শেখার জন্য প্রয়োজন হয় একটি প্লাটফর্মের। এসকল প্রয়োজনীয়তার কারনেই গড়ে উঠে ছাত্র-সংসদ। এটি সকল শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে থাকে। সেই সাথে শিক্ষার্থীদের নায্য দাবি, সমস্যা ও অধিকার তুলে ধরার পাশাপাশি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও নেতৃত্ব দেয়।
ছাত্র-সংসদ হলো শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত একটি প্রতিনিধি দল যা বর্তমানে শুধুমাত্র কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে দৃশ্যমান। সাধারণত গণতান্ত্রিক ভোটের মাধ্যমে এই ছাত্র-সংসদ হয়ে থাকে। এই ছাত্র-সংসদকে একটি ক্ষুদ্র-সংসদের সাথে তুলনা করা যায়। কেননা, এখানে তারা নিজেদের সমস্যা,মতামত নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা করে একটি সমাধানের পথ খোঁজে। ছাত্র-সংসদের এই প্রতিনিধি দল সকল শিক্ষার্থীদের কন্ঠস্বর হয়ে দাবি আদায়ে কাজ করে এবং তা রক্ষার কাজেও জোড়ালো ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে এই সংসদের গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা লক্ষ্য করা যায়।
বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে নানান সমস্যার সম্মুখীন হয়। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য আবাসন সংকট, লাইব্রেরীর সীমিত সুবিধা, মেডিকেল সহায়তার অভাব, ল্যাবরেটরির অভাব, পরিবহন সমস্যা, খাবারের সমস্যা ইত্যাদি। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ফি বৃদ্ধি ও সেশন জোট শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির কারন হয়ে দাঁড়ায়। সংগঠিত ছাত্র-সংসদ এই সমস্যা গুলো কর্তৃপক্ষের কাছে জোরালো ভাবে উপস্থাপন করে।
শিক্ষার্থীদের স্বার্থ যখন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন শিক্ষার্থীরা আন্দোলন, প্রতিবাদ গড়ে তোলে। বাংলাদেশের ইতিহাসে ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে ছাত্র সমাজের ভূমিকা ছিল অগ্রণী। এভাবে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে কাজ করতে পারে এই সংগঠিত ছাত্র-সংসদ।
ছাত্র-সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত হয়। তারপূর্বে প্রচারণা, বিতর্ক ও ভোটের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সরাসরি গণতন্ত্রের সাথে যুক্ত হয়। ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনার কাজে এই অভিজ্ঞতা মূখ্য ভূমিকা পালন করবে। সভা-সমাবেশ, সাংগঠিক কার্যক্রম ও সমস্যা সমাধানের মধ্য দিয়েও শিক্ষার্থীরা নেতৃত্বের গুণাবলী অর্জন করে থাকে। পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কর্মকান্ডেরও প্রয়োজন হয়। এজন্য ছাত্র-সংসদ নাটক, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, বহিরাঙ্গন খেলাধুলার আয়োজন করে থাকে যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রতিভা বিকাশ করার সুযোগ পায়।
এই সংসদের অনেক অনেক সুবিধার মধ্যেও রয়েছে কিছু সমস্যা। সকল সমস্যার মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো রাজনীতির প্রভাব। অনেক সময় দেখা যায় শিক্ষার্থীদের সমস্যার চেয়ে রাজনৈতিক নেতার স্বার্থ এখানে মূখ্য হয়ে ওঠে। তবে দলীয় প্রভাব থেকে মুক্ত করে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে নিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক ছাত্র-সংসদ গঠন করা হলে এইসকল সমস্যা সমাধান হবে বলে আশা করা যায়।
ছাত্র-সংসদ একটি প্রতিনিধি পরিষদের পাশাপাশি গণতন্ত্রের চর্চাক্ষেত্র, নেতৃত্বের ও সামাজিক সচেতনতার পাঠশালা। বাংলাদেশের প্রতিটা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-সংসদ চালু থাকলে শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধান করা সহজ হবে। নিজেদের দাবি-দাওয়া কার্যকরভাবে উপস্থাপন করতে পারবে এবং শিক্ষার মানকে আরও উন্নত করতে পারবে। নেতৃত্ব দেওয়ার গুণাবলী তৈরী হবে এবং শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত হবে।