1. admin@thecampusinsight.com : Campus :
  2. news@thecampusinsight.com : news :
রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ০৩:২৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
উৎসবের দিনেও যারা অতন্দ্র প্রহরী: বুটেক্স কর্মীদের সাথে উপাচার্যের ঈদ আনন্দ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ঈদ ভাবনা ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি, মনপুরায় ৭০ অসচ্ছল পরিবারের পাশে ‘স্বপ্ন বুনি ফাউন্ডেশন’ প্রাথমিক শিক্ষায় ভর্তি পরীক্ষা: মানবিক শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ? জুলাই কালচারাল সেন্টার, বুটেক্সের উদ্যোগে পথশিশুদের ‘মেহেদি উৎসব’ তারুণ্যের চোখে ঈদ: ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও মিলনের বহুরঙা অনুভূতি ছাদ থেকে পড়ে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মৃত্যু অসহায় বৃদ্ধার পাশে মানবিকতার হাত বাড়ালেন প্রফেসর ড. রশিদুল হাসান।। পাবলিক ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন অব রাজনগরের নতুন কমিটি গঠন মৃত্যুর পর এলো সাফল্যের সংবাদ, আইনজীবী হিসেবে উত্তীর্ণ খুবির রাকিব

উৎসবের দিনেও যারা অতন্দ্র প্রহরী: বুটেক্স কর্মীদের সাথে উপাচার্যের ঈদ আনন্দ

  • প্রকাশিত : রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬

বুটেক্স প্রতিনিধি

আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর। নাড়ির টানে মানুষ ফিরে গেছেন তাদের আপন ঠিকানায় প্রিয়জনের কাছে। যান্ত্রিক ব্যস্ততা ভুলে পুরো দেশ যখন উৎসবের রঙে রঙিন, তখন বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) নিস্তব্ধ ক্যাম্পাসের সবুজ প্রাঙ্গণে ভিন্ন এক চিত্র। এই শূন্য ক্যাম্পাসেও বিরাম নেই একদল মানুষের। যখন সবাই নাড়ির টানে বাড়ি ফিরেছেন, তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে শুরু করে হলের করিডোর ও ল্যাবরেটরি – সব জায়গায় অতন্দ্র প্রহরীর মতো পাহারা দিচ্ছেন একদল দায়িত্বশীল কর্মী। প্রিয়জনদের সান্নিধ্য বিসর্জন দিয়ে ক্যাম্পাসের অমূল্য সম্পদ সুরক্ষায় নিয়োজিত এই মানুষগুলোর ত্যাগের কথা মনে রেখেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয়েছে এক বিশেষ মধ্যাহ্নভোজ। ঈদ মানেই আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়া- সেই বার্তা দিতেই এই মানবিক উদ্যোগ।

শনিবার (২১ মার্চ) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় আয়োজিত এই প্রীতিভোজে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন। দুপুর ২টায় তিনি অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে প্রতিটি কর্মীর সাথে কুশলাদি বিনিময় করেন অত:পর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে একই সারিতে বসে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন। মূলত ঈদের ছুটিতেও যারা ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে বাড়ি যেতে পারেননি, সেই সকল নিরাপত্তা প্রহরী, পাম্প অপারেটর এবং ৪টি হলের
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে এই আয়োজনের ব্যবস্থা করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই শুভেচ্ছা বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার পর সবাই যখন ঘরে ফেরেন, তখন আমাদের নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীরাই এই ক্যাম্পাসকে আগলে রাখেন। তাঁদের কারণেই আমরা বাড়িতে নিশ্চিন্তে উৎসব করতে পারি। এই মানুষগুলো যেন ঈদের দিনে নিজেকে একা মনে না করেন, সেই লক্ষ্যেই গত বছর থেকে আমরা সম্মিলিত খাবারের এই ধারা শুরু করেছি। আমাদের উদ্দেশ্য হলো তাঁদের পরিবারের অভাব কিছুটা হলেও ভুলিয়ে দিয়ে একটি পরিবারের মতো ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করা।”

সহকারী পরিচালক (পাবলিক রিলেশন) মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, দেখুন আমাদের কর্মস্থলের সার্বিক নিরাপত্তার জন্যই এই মানুষগুলো গ্রাম বা শহরের বিভিন্ন জায়গায় তাদের পরিবারকে রেখে এই ঢাকা শহরে ঈদ উদযাপন করছেন। তাদের জন্য আমাদের উপাচার্য মহোদয়ের এই ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ আমাদের নতুন বাংলাদেশে নতুন করে আশা দেখাচ্ছে। আমি প্রায় প্রতিটি ব্যক্তির সাথে কথা বলে দেখেছি এই ধরনের উদ্যোগ তাদেরকে কর্মস্থলের প্রতি আরও বেশি দায়িত্ববান করে তুলছে বলে তারা আমাদেরকে জানাচ্ছেন। বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের উদ্যোগ ছড়িয়ে পড়ুক বুটেক্স পরিবারের পক্ষ থেকে এই থাকবে দেশবাসীর প্রতি কামনা। আশা করছি এই সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আগামীতেও বজায় থাকবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ তদারকির দায়িত্বে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিকিউরিটি ইন্সপেক্টর (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. বাবুল আখতার। তিনি বলেন, “উপাচার্য মহোদয় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল। আমাদের প্রায় ৫০ শতাংশ কর্মীকে নিরাপত্তার স্বার্থে ঈদের ছুটিতেও ক্যাম্পাসে থাকতে হয়। ল্যাবরেটরি থেকে শুরু করে আবাসিক হলের রক্ষণাবেক্ষণ—সবই তাঁদের হাতে। আমি নিজেও টানা তিন বছর ধরে ঈদের ছুটিতে বাড়িতে যেতে পারিনি, কারণ প্রতিষ্ঠানের প্রতি দায়বদ্ধতা আমার কাছে সবার আগে। উপাচার্য স্যার নিজে খাবারের মান নিয়ে বারবার খোঁজ নিয়েছেন এবং নির্দেশ দিয়েছেন যেন কোনো কমতি না থাকে।”

ক্যাম্পাসের প্রবীণ নিরাপত্তা প্রহরী মো. আব্দুল হালিম তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “ঈদের দিন বাড়ির কথা মনে পড়লে মন কিছুটা ভারাক্রান্ত হই ঠিকই, কিন্তু যখন দেখি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ অভিভাবক আমাদের পাশে বসে খাচ্ছেন, তখন সেই কষ্ট আর থাকে না। উপাচার্য স্যার এবং আমাদের ইনচার্জ বাবুল স্যার যেভাবে আমাদের সম্মান ও বকশিশ দিয়েছেন, তাতে আমরা আনন্দিত। এমন আয়োজন আমাদের কাজের স্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।”

উল্লেখ্য, এই মধ্যাহ্নভোজে নিরাপত্তা কর্মী, পাম্প অপারেটর, লিফট অপারেটর সহ ৪টি আবাসিক হলের জরুরি সেবায় নিয়োজিত প্রায় ৬০ জন কর্মী অংশ নেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরিচালক (পাবলিক রিলেশন) মো. শফিকুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ। খাবারের পাশাপাশি দায়িত্বরত কর্মকর্তা কর্মচারীদের ঈদ বকশিশ প্রদান করা হয়, যা উৎসবের দিনটিতে এক নতুন আনন্দ যোগ করে।

শেয়ার করুন...

অন্যান্য...