1. admin@thecampusinsight.com : Campus :
  2. news@thecampusinsight.com : news :
মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ০১:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
জাবির কাজী নজরুল হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের সম্মানে ছাত্রশিবিরের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ২০ দিনের ছুটিতে রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের হাতে ঈদ সালামি তুলে দিলেন যবিপ্রবির সিএসই বিভাগের শিক্ষকরা নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসের ইফতার ডায়েরি টানা ১৯ দিনের ছুটি পাচ্ছে যবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা জাবির নজরুল হল সংসদের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত পোষ্য কোটা ইস্যু: সিনেট হলের সভা বর্জন নিয়ে জাবি শিক্ষক সমিতির ব্যাখ্যা জাবির সালাম-বরকত হলে ছাত্রদলের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত বইমেলায় থাকছে ড. মিজান রহমানের বই ‘বুদ্ধি ২.০’ জবি ছাত্রদল কর্মী শের আলীর বিরুদ্ধে পথচারী ও বাস থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ

নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসের ইফতার ডায়েরি

  • প্রকাশিত : সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬

বসন্তের শেষ বিকেলের হালকা বাতাস। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এর কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ আর বাস্কেটবল কোর্টে তখন হাজারো শিক্ষার্থীর ভিড়। তবে এই ভিড় আড্ডার নয়—এই ভিড় এক ভিন্নরকম অপেক্ষার। মাগরিবের আজান আর এক টুকরো খেজুরের অপেক্ষায় গোল হয়ে বসে আছে কয়েকশ শিক্ষার্থী। কারও হাতে পানির বোতল, কেউ ব্যস্ত মুড়ি মাখানোয়। সূর্য যখন ধীরে ধীরে পশ্চিম আকাশে ডুবতে থাকে, তখন ক্যাম্পাসজুড়ে যেন এক অদ্ভুত শান্তি আর প্রত্যাশার আবহ তৈরি হয়। এই দৃশ্য যেন ত্যাগ, সংযম আর ভ্রাতৃত্বের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।

বাড়ি থেকে দূরে থাকা শিক্ষার্থীদের কাছে রমজান মানেই বাবা-মায়ের হাতের ইফতারকে খুব করে মিস করা। কিন্তু সেই অভাবটা অনেকটাই পূরণ করে দেয় বন্ধুরা। হলের ডাইনিং এ বানানো  ইফতার কিংবা পকেট গেট থেকে নিয়ে আসা সামান্য ছোলা-পিয়াজু যখন বন্ধুদের সাথে ভাগ করে নেওয়া হয়, তখন সেই সাধারণ খাবারই হয়ে ওঠে অমৃত।বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ আর বাস্কেটবল কোর্ট,শান্তিনিকেতন বা নীল দিঘির পাড়ে বসে যখন কয়েকশ শিক্ষার্থী একসাথে ইফতার করে, তখন সেখানে কোনো বৈষম্য থাকে না। জুনিয়র-সিনিয়র ভেদাভেদ ভুলে সবাই যেন এক পরিবারের সদস্য হয়ে ওঠে।

ক্যাম্পাসের ইফতার মানেই শুধু খাবার নয়, বরং একসঙ্গে সময় কাটানোর এক উষ্ণ মুহূর্ত। গোল হয়ে বসে থাকা বন্ধুদের মাঝে ইফতারের এই ছোট্ট আয়োজন ধীরে ধীরে রূপ নেয় এক আনন্দঘন মিলনমেলায়। অপেক্ষার সেই মুহূর্তে গল্প, হাসি আর বন্ধুত্বের উচ্ছ্বাসে জমে ওঠে চারপাশ। সাধারণ ইফতারও তখন হয়ে ওঠে স্মরণীয় এক সন্ধ্যা, যেখানে বন্ধুত্ব আর সহমর্মিতার বন্ধন আরও গভীর হয়ে ওঠে।।একাডেমিক চাপ, ল্যাব রিপোর্ট কিংবা আসন্ন পরীক্ষার দুশ্চিন্তা—সবকিছু যেন কিছু সময়ের জন্য ভুলে যায় শিক্ষার্থীরা।

রমজান এলেই ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন, আঞ্চলিক সংগঠন ও বিভাগভিত্তিক শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে ইফতার আয়োজন হয়ে ওঠে এক মিলনমেলা।সম্প্রতি এক ছাত্রসংগঠনের উদ্যোগে প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থীর জন্য বিশাল ইফতারের আয়োজন করা হয়। এছাড়া ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সংগঠনও নিজেদের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল আয়োজন করে থাকে। অনেক বিভাগ আবার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিভাগভিত্তিক ইফতার আয়োজন করে, যেখানে তৈরি হয় আন্তরিক সম্পর্কের এক উষ্ণ পরিবেশ।

রমজান মাসেও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম থেমে থাকে না। রোজা রেখেই অনেক শিক্ষার্থীকে ক্লাস করতে হয়, ল্যাব করতে হয়, কখনো কখনো ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্ত পর্যন্ত পরীক্ষার হলেই থাকতে হয়।ক্লাস শেষ করে দ্রুত ক্যাম্পাসের মাঠে এসে বন্ধুদের সাথে বসে ইফতার করার সেই মুহূর্তগুলো শিক্ষার্থীদের কাছে হয়ে ওঠে এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা।অনেক শিক্ষার্থীর জন্য রমজানের দিনগুলো আরও ব্যস্ত। কেউ ক্লাস শেষ করে শহরে টিউশন পড়াতে যান। বিকেলের শেষভাগে টিউশন শেষ করে দ্রুত ক্যাম্পাসে ফিরে এসে বন্ধুদের সাথে ইফতারে বসেন।দিনভর রোজা রেখে ক্লাস, টিউশন আর নানা ব্যস্ততার মাঝেও এই ছোট্ট ইফতারের মুহূর্ত যেন সব ক্লান্তি দূর করে দেয়।

ইসলামে ইফতার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল। মহানবী হযরত মহাম্মাদ (সা.) সূর্যাস্তের সাথে সাথে দ্রুত ইফতার করার প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। সাধারণত খেজুর ও পানি দিয়ে ইফতার শুরু করা সুন্নত হিসেবে বিবেচিত।রমজানে একসাথে ইফতার করার মধ্যেও রয়েছে ভ্রাতৃত্ব ও সহমর্মিতার শিক্ষা। তাই ক্যাম্পাসের এই সম্মিলিত ইফতার আয়োজন শুধু খাবারের সময় নয়, বরং এটি এক ধরনের সামাজিক ও আধ্যাত্মিক বন্ধনের প্রতীক।ইফতারের সময় দোয়া কবুল হওয়ার বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে ধরা হয়। অনেক শিক্ষার্থী ইফতারের আগে নীরবে দোয়া করেন।

ইফতার শেষে কিছু সময় বিশ্রাম নিয়ে অনেক শিক্ষার্থী আবার ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় মসজিদের দিকে ছুটে যান তারাবির নামাজ আদায় করতে। সারাদিনের রোজা, ইফতার আর তারাবির এই ধারাবাহিকতা রমজানের আধ্যাত্মিক পরিবেশকে আরও গভীর করে তোলে।ই এস ডি এম বিভাগের ১৮ তম আবর্তনের এক শিক্ষার্থী বলেন—

 “বাড়ি থেকে দূরে থাকলেও বন্ধুদের সাথে ক্যাম্পাসে ইফতার করলে মনে হয় আমরা সবাই যেন এক পরিবারের সদস্য।”

দিন শেষে সূর্য যখন দিগন্তে মিলিয়ে যায় আর মুয়াজ্জিনের আজান ভেসে আসে, তখন ক্যাম্পাসের আকাশে নেমে আসে এক অন্যরকম প্রশান্তি। বন্ধুত্ব, ভ্রাতৃত্ব আর আধ্যাত্মিকতার এই মিলিত অনুভূতিই নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসের ইফতারকে করে তোলে অনন্য।এই ইফতার শুধু ক্ষুধা মেটানোর জন্য নয়—বরং এটি তৈরি করে আজীবন মনে রাখার মতো কিছু স্মৃতি, যা ক্যাম্পাস ছাড়ার বহু বছর পরও শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে অমলিন হয়ে থাকবে।

লেখক:
জিয়াউল করিম শামীম
শিক্ষার্থী, Noakhali Science and Technology University

শেয়ার করুন...

অন্যান্য...