রামিন কাউছার
জাবি প্রতিনিধি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ভর্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেনি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। আজ (৮ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোহেল রানা ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইরিন আক্তার স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই অপারগতা প্রকাশ করা হয়।
বিবৃতিতে শিক্ষক সমিতি দাবি করেছে, পোষ্য ভর্তি ব্যবস্থার কারণে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের আসনসংখ্যায় কোনো বড় পরিবর্তন আসে না। প্রতি বছর মোট ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর মাত্র ১ থেকে ২ শতাংশ এই প্রক্রিয়ায় ভর্তি হয়। ফলে এটি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য বা মেধাভিত্তিক বঞ্চনা সৃষ্টি করে না। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়া অত্যন্ত স্বচ্ছ হওয়ায় মেধার শতভাগ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে বলেও তারা মনে করেন।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা ও অধিকার সংকুচিত হওয়ার কারণে মেধাবীরা এই পেশা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। দেশের উচ্চশিক্ষা ও জাতীয় অগ্রগতির স্বার্থে মেধাবীদের শিক্ষকতায় আকৃষ্ট করতে ১৯৯৩ সালের সিন্ডিকেট সভার ভর্তি অধ্যাদেশ অনুযায়ী ‘পোষ্য ভর্তি ব্যবস্থা’ চালু রাখা নীতিগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শিক্ষক সমিতি অভিযোগ করেছে যে, পোষ্য কোটা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসত্য ও আক্রমণাত্মক তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এতে শিক্ষক সমাজকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এমনকি সভাটিকে কেন্দ্র করে “পোষ্য ভর্তি বাতিল করা হবে” মর্মে যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তা বিভ্রান্তিকর।
এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে মতবিনিময় সভায় অংশ নিলে তা যুক্তিনিষ্ঠ সংলাপের পরিবর্তে ভুল ব্যাখ্যা ও মর্যাদাহানির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এই আশঙ্কা থেকেই তারা সভায় অনুপস্থিত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।