জবি প্রতিনিধি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের কর্মী শের আলীর বিরুদ্ধে পথচারীদের আটকিয়ে টাকা আদায় এবং বাস থেকে নিয়মিত চাঁদা তোলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ঢাকার কোর্ট এলাকা ও রায়সাহেব বাজার সংলগ্ন এলাকায় তিনি সহযোগীদের নিয়ে গভীর রাতে পথচারীদের আটকিয়ে টাকা আদায় করেন। সর্বশেষ গত শুক্রবার মধ্যরাতে এক পথচারীর কাছ থেকে জোরপূর্বক সাড়ে ৯ হাজার টাকা আদায় এবং বাকি টাকা আদায়ের জন্য তার মোবাইল ফোন জব্দ করে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শের আলী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইন্সটিটিউটের (আইএমএল) ১৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কর্মী। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিতের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেছেন, শুধু পথচারীদের কাছ থেকেই নয়, বরং ক্যাম্পাসের সামনে দিয়ে যাওয়া বাস থেকেও নিয়মিত চাঁদা তোলেন শের আলী ও তার সহযোগীরা। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বাসচালক ও হেলপারদের মারধরের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত শুক্রবার দিবাগত রাত দুইটা থেকে আড়াইটার দিকে সদরঘাট থেকে রায়সাহেব বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন এক ব্যবসায়ী। কোর্ট এলাকার সামনে পৌঁছালে ২-৩ জন যুবক তার পথরোধ করেন। স্থানীয়দের দাবি, ওই যুবকেরা প্রায়ই সেখানে অবস্থান করে পথচারীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করেন।
প্রথমে তারা ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৫০০ টাকা আদায় করেন। এ সময় সেখানে শের আলী তার ৪-৫ জন সহযোগী নিয়ে উপস্থিত হন। পরে ওই পথচারীকে আটকে রেখে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন তারা। অভিযোগ রয়েছে, প্রথমে আটক করা দুই যুবকের সঙ্গে সমঝোতা করে আদায়কৃত টাকার একটি অংশ দেওয়ার প্রস্তাব দেন শের আলী।
পরে পথচারীকে চাপ দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়ে ৯ হাজার টাকা আদায় করা হয়। বাকি ১০ হাজার টাকা পরে নেওয়ার জন্য তার কাছে থাকা মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে দেলোয়ার নামে ওই পথচারীর এক পরিচিত ব্যক্তি ঘটনাস্থলে এসে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, টাকা আদায়ের পর প্রথমে পথ আটকানো দুই যুবককে ৫০০ টাকা দিয়ে বাকি টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন শের আলী ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনার ভিডিওসহ কিছু প্রমাণ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।
ঘটনার সময় পাশেই অবস্থান করা মুক্তা নামে এক ছিন্নমূল নারী বলেন, প্রথমে গলির দুইজন ছেলে ওই লোকটাকে আটকায় এবং কিছু টাকা নেয়। পরে শের আলী নামের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছেলে আরও কয়েকজনকে নিয়ে সেখানে আসে। তারা ওই লোকের কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করে। পরে তার কাছ থেকে সাড়ে ৯ হাজার টাকা নেয়। বাকি টাকা নেওয়ার জন্য তার মোবাইল ফোন রেখে দেয়। ওরা মাঝেমধ্যেই এখানে এভাবে লোকজনকে ধরে টাকা নেয়। অনেক সময় ঝামেলাও করে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথমে পথচারীকে আটকানো দুই যুবক বলেন, আমরা প্রথমে ওই লোককে আটকিয়ে ৫০০ টাকা নিয়েছিলাম। পরে শের আলীসহ ৪-৫ জন এসে বলে ২০ হাজার টাকা আদায় করবে এবং আমাদের অর্ধেক দেবে। কিন্তু পরে সাড়ে ৯ হাজার টাকা ও মোবাইল নিয়ে নিলেও আমাদের মাত্র ৫০০ টাকা দিয়েছে।
তাদের দাবি, শের আলী ও তার সহযোগীরা নিয়মিতই এই এলাকায় এসে পথচারীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করেন। শুধু তাই নয়, রায়সাহেব বাজার হয়ে ক্যাম্পাসের সামনে কোনো বাস ঢুকলে সেখান থেকেও চাঁদা তোলা হয়।
তারা বলেন, বাস থেকে চাঁদা না দিলে ড্রাইভার ও হেলপারদের মারধর করা হয়। অনেক সময় ভয় দেখিয়ে টাকা নিতে দেখা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, রায়সাহেব বাজার পার হয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কে প্রবেশ করা কিছু বাস থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হয়। এতে জড়িত থাকেন শের আলী ও তার কয়েকজন সহযোগী। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে চালক ও হেলপারদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং মারধরের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী।
প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গভীর রাতে ওই এলাকায় প্রায়ই কয়েকজন যুবক অবস্থান করেন এবং পথচারীদের আটকিয়ে টাকা আদায় করেন। এতে সাধারণ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে চলাচল করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শের আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি এসব বিষয়ে কিছুই জানিনা, এমন কোনো কাজই করিনি। এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমার সাথে কেউ ছিলোও না।
এ বিষয়ে কথা বলতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিতকে কল দেওয়া হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, আমি এবিষয়ে কিছু জানিনা। তাই এখনই কিছু বলতে পারছিনা। বিষয়টি জেনে জানাতে পারবো।