মেহেরপুর প্রতিনিধি
মেহেরপুরের গাংনীতে অনলাইন জুয়া ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার সাংবাদিক মামুন অর রশিদ বিজনকে দমাতে মাঠে নেমেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। নিজের পরিচয় লুকিয়ে ‘ফেক আইডি’ এবং ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে সাজানো ‘চাঁদাবাজি’র নাটক সাজিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে তিনজনের বিরুদ্ধে।
এই ঘটনায় গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) গাংনী থানায় সাংবাদিক বিজন একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নম্বর: EIZDOR) করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন— আনোয়ার হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন ও কামাল উদ্দিন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাংবাদিক মামুন অর রশিদ বিজন সম্প্রতি মেহেরপুর জেলায় ভয়াবহ আকার ধারণ করা ‘অনলাইন জুয়া’ নিয়ে একটি সাহসী ও সচেতনতামূলক পোস্ট দেন। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে জুয়া সংশ্লিষ্ট একটি চক্র। জুয়া সিন্ডিকেটের স্বার্থে আঘাত লাগায় তারা সাংবাদিক বিজনকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করার পরিকল্পনা করে।
জানা যায়, গত ২৯ জানুয়ারি ‘কাম ফর হিউম্যানিটি (সিএফএইচ)’ সংগঠনের মাধ্যমে এতিমখানার শিশুদের পড়ার টেবিল কেনার জন্য আনোয়ার হোসেন স্বেচ্ছায় ২,০০০ টাকা অনুদান দেন। কিন্তু সাংবাদিক বিজন জুয়ার বিরুদ্ধে পোস্ট দেওয়ার পর, সেই স্বেচ্ছায় দেওয়া অনুদানকে ‘জোরপূর্বক চাঁদা’ হিসেবে প্রচার শুরু করেন আনোয়ার।
আনোয়ারের এই মিথ্যা দাবিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করতে আব্দুল্লাহ আল মামুন ও কামাল উদ্দিন লিপ্ত হন। তারা বিভিন্ন ফেক আইডি ব্যবহার করে এবং নিজেদের ওয়াল থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘চাঁদাবাজি’ শিরোনামে স্ক্রিনশট শেয়ার করে বিভ্রান্তি ছড়ান।
এদিকে, সংগঠনটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক প্রেস রিলিজে জানানো হয়, ২০১৮ সাল থেকে সিএফএইচ আর্তমানবতার সেবায় কাজ করছে। আনোয়ারের অনুদানটি সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কের মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে এসেছিল এবং তা এতিমখানার কাজেই (মোট ব্যয় ৬,৯০০ টাকা) ব্যয় করা হয়েছে। সাংবাদিক বিজনের কোনো ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা না থাকলেও আনোয়ার, আব্দুল্লাহ ও কামাল উদ্দিন ত্রয়ীবাহিনী এবং তাদের পেছনে থাকা জুয়া সিন্ডিকেট মিলে বিষয়টিকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক বিজন বলেন, “ফেক আইডি ব্যবহার করে বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে আমার কণ্ঠরোধ করা যাবে না। অনলাইন জুয়া ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমার কলম চলবেই। আমি প্রশাসনের কাছে এই সাইবার অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, জিডিটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ফেক আইডি পরিচালনাকারী এবং এই অপপ্রচারের মূল হোতাদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা বিঘ্নিত করায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।