রাবিপ্রবি প্রতিনিধি
যথাযোগ্য মর্যাদা ও গভীর শ্রদ্ধায় রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবিপ্রবি) মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে। দিনটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও আবাসিক হলসমূহে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয় এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কালো ব্যাজ ধারণ করেন।
সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ক্যাম্পাসে অবস্থিত বিজয় স্মৃতিস্তম্ভে ভাষা শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আতিয়ার রহমান। এ সময় বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত), বিভাগীয় চেয়ারম্যান, হল প্রভোস্ট, প্রক্টর ও দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পুষ্পস্তবক অর্পণের পর ১৯৫২ সালের ভাষা শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে তাঁদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। একইসঙ্গে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর গণআন্দোলন এবং জুলাই ’২৪-এর আন্দোলনে শহিদদের রুহের মাগফেরাত কামনা এবং আহতদের সুস্থতা ও তাঁদের পরিবারের কল্যাণে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপাচার্য বলেন, মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠায় ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে শহিদদের আত্মত্যাগ জাতির জন্য চিরস্মরণীয়। তাঁদের ত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করা যেমন জাতীয় দায়িত্ব, তেমনি ’৭১, ’৯০ ও ’২৪–এ জনআকাঙ্ক্ষা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে শহিদদের অবদানও সমানভাবে স্মরণীয়। তিনি সকলকে জাতীয় উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, শহিদদের আদর্শ ও চেতনাকে ধারণ করে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সততা, দক্ষতা ও নৈতিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। বৈষম্য ও বঞ্চনামুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে উপাচার্য আশা প্রকাশ করেন, রাবিপ্রবি নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।