1. admin@thecampusinsight.com : Campus :
  2. news@thecampusinsight.com : news :
মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১০:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শেরে বাংলার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাবিতে ছাত্রদলের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি আন্তর্জাতিক বৃত্তি-ফেলোশিপে শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য সরকারের নানামুখী উদ্যোগ হিট প্রকল্প দেশের উচ্চশিক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে: ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য ডা. জিয়াউর রহমান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ পিএইচডি গবেষকের গবেষণাপত্র উপস্থাপন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের সঙ্গে ফরাসি সমুদ্রবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞের সৌজন্য সাক্ষাৎ ঢাবি ছাত্রী নাট্যকর্মী মিমোর মরদেহ উদ্ধার: শিক্ষককে নিয়ে লেখা আছে চিরকুট! সবুজ পাতায় অন্তর্ভুক্তির অপেক্ষায় নোবিপ্রবির হাজার কোটি টাকার প্রকল্প জাকসুর উদ্যোগে গবেষণা ও একাডেমিক দক্ষতা উন্নয়নে সেমিনার লিডিং ইউনিভার্সিটিতে ‘আইডিয়াস টু ইমপ্যাক্ট’ রিসার্চ সেমিনার অনুষ্ঠিত

জাবির হিম উৎসবে পালাগানের পবিত্র কুরআন অবমাননা; উত্তপ্ত পরিস্থিতি

  • প্রকাশিত : শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

রামিন কাউছার

জাবি প্রতিনিধি


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) হিম উৎসবের শেষ রাতে পালাগানের একটি পরিবেশনা ঘিরে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছবি চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছবি চত্বরে চলমান পালাগানের একটি অংশে নারী ও পুরুষের গুণাবলি নিয়ে গানে গানে আলোচনা হচ্ছিল। এর ধারাবাহিকতায় একজন পুরুষ বাউল শিল্পী কুরআনের সর্বশেষ সূরা, সূরা নাসের কথা উল্লেখ করেন। তিনি সূরাটির কিছু অংশ অসম্পূর্ণভাবে পাঠ করে মন্তব্য করেন—“পুরা সূরা জুড়েই নাচতে বলা হয়েছে, যত নাচবি, তত বাঁচবি।” এরপর তিনি নৃত্যসংক্রান্ত একটি গান শুরু করে দর্শকদের নাচের আহ্বান জানান।
এই বক্তব্য শোনার পর দর্শক সারিতে অস্বস্তি তৈরি হয়। অনেক শিক্ষার্থী তাৎক্ষণিকভাবে আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এ ধরনের বক্তব্য ধর্মীয়ভাবে বিকৃত ও আপত্তিকর হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এর মধ্যেই দুইজন শিক্ষার্থী হঠাৎ করে মঞ্চে উঠে শিল্পীর হাত থেকে মাইক নিয়ে প্রতিবাদ জানান এবং সূরা নাসকে এভাবে উপস্থাপন করাকে ধর্ম অবমাননা বলে অভিযোগ করেন।
পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগেই শিল্পী তাৎক্ষণিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে সরি বলেন।
তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, আয়োজকরা ঘটনাস্থলে জড়ো হওয়ার পর শিল্পী আবারও নৃত্যসংক্রান্ত লিরিক দিয়ে গান শুরু করেন, যা পরিস্থিতিকে পুরোপুরি শান্ত করতে পারেনি। পালাগানের অপর শিল্পীর অংশ শুরু হলেও বিতর্কিত বক্তব্যের কোনো ব্যাখ্যা বা খণ্ডন করা হয়নি, যদিও অনুষ্ঠান প্রায় আরও দুই ঘণ্টা চলে।
ঘটনার পর আয়োজক কমিটি মঞ্চে প্রতিবাদ করা দুই শিক্ষার্থীকে প্রোগ্রাম এলাকা থেকে সরিয়ে নেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন একত্র হয়ে ওই শিক্ষার্থীদের ঘিরে ধরেন, যা একপর্যায়ে মব পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এতে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ শহীদ মিনারের পাশে জড়ো হয়ে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে স্লোগান দিতে থাকেন।
দিবাগত রাত প্রায় দুইটার দিকে একদল শিক্ষার্থী উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে আশ্বস্ত করেন যে, প্রক্টরিয়াল টিমের প্রাথমিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘সূরা নাস নিয়ে শুরুর দিকে একটি সমস্যা হয়েছিল। সেই সূত্র ধরে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানছে—এমন অভিযোগ তুলে যে ছেলে এটি নিয়ে ওখানে (মঞ্চে) কথা বলতে গিয়েছিল, তাকে আয়োজকেরা বের করে দিয়েছে। পরে কিছু সাধারণ ছাত্র বিষয়টি নিয়ে উত্তেজিত হয়ে পড়েছিল। তাদের আমরা শান্ত করেছি। এটি আসলে ছাত্ররা তাদের নৈতিকতার জায়গা থেকে বিষয়টি প্রোটেস্ট করেছে। তাদের শান্ত করা হয়েছে, তারা চলে গেছে। তবে আয়োজকদের অনেকেই বলছে, এই ঘটনার পর শিল্পী সরি বলেছেন।’

শেয়ার করুন...

অন্যান্য...