নোবিপ্রবি প্রতিনিধি
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) বিভিন্ন প্রকল্পে ছাত্রদল নেতাদের চাঁদাবাজি ও কর্মকর্তাকে হুমকির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে ছাত্ররাজনীতির নামে দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ধ্বনিত হয়।
রবিবার (১ ফ্রেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরবর্তীতে শহিদ মিনারের প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মিছিলে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘চাঁদাবাজদের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না’, ‘ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও, চাঁদাবাজদের আস্তানা’, ‘লীগ গেছে যে পথে, চাঁদাবাজ যাবে সে পথে’, ‘চাঁন্দাশক্তি চাঁন্দাবল, আমরা ছাত্রদল’, :‘ছি ছি লজ্জা, লজ্জা লজ্জা’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
প্রতিবাদ সমাবেশে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী কাজী সৌরভ বলেন, আমরা আজকে একত্রিত হয়েছি চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে। আমরা চাই না জুলাই পরবর্তী কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চাঁদাবাজদের আস্থানা হয়ে যাক। এই ১০১ একর ক্যাম্পাসে আমরা কোন চাঁদাবাজদের দেখতে চাই না। যেখানে চাঁদাবাজি হবে, সেখানে আমরা রুখে দিব। শিক্ষাঙ্গন পাঠদানের জায়গা, এটা চাঁদাবাজির জায়গা না। যেখানে চাঁদাবাজদের দেখবেন, আপনারা সেখানে রুখে দিবেন।
হতাশা ব্যক্ত করে ওশানোগ্রাফি বিভাগের শিক্ষার্থী জিহাদুল ইসলাম রাফি বলেন, ৫ই আগস্ট পরবর্তী আমরা ভেবেছিলাম ছাত্ররাজনীতির ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। কিন্তু দেখতে পাচ্ছি একশ্রেণির চাঁদাবাজের আবির্ভাব হয়েছে। শুনেছি তাদের পদচারণায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তর মুখরিত থাকে। আমি দপ্তরের কর্মকর্তাদের বলতে চাই, কেউ চাঁদাবাজির জন্য আপনাদের কাছে গেলে পায়ের নিচে যে জুতা আছে সেগুলো দুই গালে লাগিয়ে দেবেন। এরপর বেঁধে রাখবেন। পরবর্তীতে আমরা শিক্ষার্থীরা আপনাদের পাশে থেকে প্রশাসনের কাছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দাবি জানাবো।
শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী মুজতবা ফয়সাল নাঈম বলেন, তারা ধরে নিয়েছে ১২ তারিখের পর তাদের মাদার সংগঠন ক্ষমতায় আসলে পূর্বের ফ্যাসিবাদী অবস্থায় ফিরে যাবে। আমরা যখন মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, তখন খবর আসলো মিরসরাই এ ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বে একজন সপ্তম শ্রেণির ছাত্রকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়েছে। সারাদেশে তারা নারীদের হয়রানি, সম্ভ্রমহানি থেকে শুরু করে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করেছিলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল তার ব্যতিক্রম হবে। কিন্তু তারাও চাঁদাবাজি পথ ধরেছে। নতুন বাংলাদেশে আমরা হুশিয়ারি করে দিতে চাই, ক্ষমতায় যেই আসুক চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি আর হতে দেওয়া হবে না।