রাবিপ্রবি প্রতিনিধি
রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রাবিপ্রবি) ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘রাবিপ্রবি জাতীয় ট্যুরিজম কনফারেন্স’ এর উদ্বোধন হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুর ৩.৩০ ঘটিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-১ এর সম্মেলন কক্ষে এ কনফারেন্স শুরু হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য রাখেন কনফারেন্সের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও রাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আতিয়ার রহমান।
দুই দিনব্যাপী এই কনফারেন্সের প্রথমদিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় অনুষদের ডিন ও কনফারেন্সের সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রহিম উদ্দিন।
কনফারেন্সে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য তাঁর বক্তব্যে বলেন, কনফারেন্স আয়োজনের মাধ্যমে রাঙ্গামাটিতে এক ছাদের নিচে পর্যটন শিল্প পেশার সাথে জড়িত প্রফেশনালস এবং একাডেমিয়ার মানুষের সাথে নেটওয়ার্ক তৈরি করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমরা কনফারেন্সের মতো এরকম প্লাটফর্মের মাধ্যমে একে অন্যের সাথে কোলাবোরেশন করতে চাই এবং সংযুক্ত হতে চাই। তিনি অত্র অঞ্চলের পর্যটন শিল্পের বিকাশ ও উন্নয়নে সকল ধরণের সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস প্রদান করেন। স্থপতি, নকশাবিদ, নৃতত্ত্ববিদ, বন সংরক্ষক, সাংবাদিকসহ প্রত্যেকের পর্যটন শিল্প বিকাশে ভূমিকা রয়েছে এবং পর্যটন শিল্প সকলকে একত্রিত করতে পারে। তিনি বক্তব্যের এক পর্যায়ে রাঙ্গামাটিতে তাঁর স্কুলে পড়ার স্মৃতিচারণা করেন। এছাড়াও পর্যটন শিল্পে রাঙ্গামাটির অপার সম্ভাবনার সম্পর্কে তিনি উল্লেখ করেন এবং রাঙ্গামাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির প্রশংসা করেন। তিনি রাঙ্গামাটির শিক্ষার্থীদের পথ প্রদর্শকের ভূমিকা পালন করার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক অগ্রগতির জন্য কাজ করার আহবান জানান।
রাবিপ্রবি উপাচার্য তাঁর বক্তব্যে বলেন, রাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে পর্যটনের এই সম্মেলনের মাধ্যমে পর্যটন নিয়ে কাজ করা গবেষক এবং নীতিনির্ধারকদের এক মিলনস্থলে পরিণত হয়েছে। আমরা আশা করি ভবিষ্যতে পাহাড় ও লেক সমৃদ্ধ রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দেশের পর্যটনের অন্যতম বৃহৎ কেন্দ্র হবে। কনফারেন্স আয়োজনের মাধ্যমে এ বিশ্ববিদ্যালয় রাঙ্গামাটির মানুষের সাথে সংযোগ স্থাপনে এবং রাঙ্গামাটির পর্যটন শিল্পকে আমূল পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারবে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কনফারেন্সে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যলয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর। তিনি রাঙ্গামাটিকে পর্যটন শিল্পের জন্য উপযোগী একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সিগনিফিকেন্ট অঞ্চল মনে করেন। যেখানে ইকো ট্যুরিজম, কালচারাল ট্যুরিজম ও কমিউনিটি ট্যুরিজমের ওপার সম্ভাবনা বিরাজমান বলে মন্তব্য করেন। সেইসাথে তিনি এ অঞ্চলের ট্যুরিজমের চ্যালেঞ্জসমূহের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন।
কনফারেন্সে প্লেনারি সেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ কামরুল হাসান ও বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিটাইম ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ড. মোঃ সাইফুল ইসলাম তাদের নির্ধারিত প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
উল্লেখ্য, দুই দিনব্যাপী এ কনফারেন্সে পর্যটন শিল্পে টেকসই উন্নয়ন, ইকো ট্যুরিজম, পলিসি নির্ধারণ, এআই ও পর্যটনে বিগ ডেটার প্রয়োগ, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ সংরক্ষণ, নদী ও হাওড় অঞ্চল সংরক্ষণ, পর্যটনে কমিউনিটি ও নারীদের সম্পৃক্তকরণ, স্মার্ট ট্যুরিজম এবং প্রত্নতাত্ত্বিক ও নৃতাত্ত্বিক স্থান সংরক্ষণসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপিত হবে।