সাব্বির রহমান রাব্বীল
যবিপ্রবি প্রতিনিধি
নতুন বছরের শুরুতে শীতকালীন অবকাশে যখন ক্যাম্পাস প্রায় জনশূন্য, তখনও কিছু আলো জ্বলে থাকে। বন্ধ ক্লাসরুম, নীরব করিডোর আর ফাঁকা হলের মাঝেই রয়ে যায় কয়েকজন শিক্ষার্থী—যারা ছুটিতে বাড়ি ফেরেনি। কারও টিউশন, কারও কাজের তাড়া, আবার কারও কাছে ক্যাম্পাসই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে আপন জায়গা। কারোও কাছে এই ছুটি হয়ে উঠেছে সুযোগকে সঠিক ভাবে কাজে লাগানোর একটা উত্তম মাধ্যম। ছুটির দিনে যেখানে ক্যাম্পাস মানেই নিস্তব্ধতা, সেখানে এই শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবন চলে ভিন্ন বাস্তবতায়। তাদের মাঝ থেকে উঠে এসেছে সেই নীরব দিনগুলোর কথা, যা ছুটির উচ্ছ্বাসের আড়ালে থেকে যায় অদেখাই। সেসকল শিক্ষার্থীদের মনের অনুভূতি তুলে ধরেছেন দ্যা ক্যাম্পাস ইনসাইট এর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি সাব্বির রহমান রাব্বীল।
ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্ড প্রডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী সোহানোর রহমান জানান, শীতকালীন ছুটিতে অনেকেই বাড়ি ফিরলেও পড়াশোনা ও সেল্ফ স্টাডির জন্য তিনি ক্যাম্পাসেই থেকেছেন। ছুটির শান্ত পরিবেশ তাকে মনোযোগী হতে ও নিজেকে নিয়ে ভাবার সুযোগ করে দিয়েছে। রুমমেট ও সহপাঠীরা হলে থাকায় একাকীত্ব তেমন অনুভূত হয়নি, যদিও ডাইনিং ও ক্যাফেটেরিয়া বন্ধ থাকায় শীতের মধ্যে খাবারের ব্যবস্থায় কিছুটা ভোগান্তি ছিল। তার বাসা নরসিংদীর তুলনায় যশোরের শীত শুরুতে ভিন্ন লাগলেও সময়ের সঙ্গে বন্ধুদের সঙ্গে ভোরবেলায় খেজুরের রস খেতে যাওয়ার মতো মুহূর্তগুলো তার কাছে উপভোগ্য হয়ে ওঠে। তার ভাষায়, ছুটির এই সময়টা ক্যাম্পাসে থেকে নিজেকে নতুনভাবে খুঁজে পাওয়ার এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা।
কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী নাবিলা নেলিন শীতকালীন ছুটির নীরবতায় নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করেছেন। ক্যাম্পাস যখন প্রায় ফাঁকা, তখন অনেকের মতো বাড়ি না ফিরে এখানেই থেকেছেন তিনি। একা থাকার সময়টা যে সহজ ছিল না, তা স্বীকার করে নিয়ে নাবিলা বলেন, এই একাকীত্বই তাকে নিজের শক্তি চিনতে সাহায্য করেছে। তার কাছে ছুটির দিনগুলো কেবল অপেক্ষার সময় নয়। বরং তা ছিলো আত্মপ্রস্তুতি, আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যতের লক্ষ্যের দিকে একধাপ এগিয়ে যাওয়ার এক মূল্যবান অধ্যায়। নাবিলার ভাষায়,”এটা একাকীত্বের গল্প নয়। এই সময়টাই আমাকে আরও দৃঢ় করেছে এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দিয়েছে।”
ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী অমিতও শীতকালীন ছুটিতে ক্যাম্পাসেই থেকে গেছেন সেমিস্টার পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য। অনেকেই যখন বাড়ি ফিরেছে, তখন নিজের রুমের নীরবতাকেই তিনি বেছে নিয়েছেন পড়াশোনা ও সেল্ফ স্টাডির উদ্দেশ্যে। সামনে থাকা পরীক্ষাগুলোই তার প্রধান ভাবনা। তার মতে, একাকীত্বই মনোযোগের সবচেয়ে বড় সহায়। পাশাপাশি টিউশনের দায়িত্ব থাকায় ক্যাম্পাস ছেড়ে যাওয়ার সুযোগ হয়নি তার। অমিতের কাছে বাসায় না ফেরা কোনো ত্যাগের গল্প নয়। বরং এটা নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার সময়। নীরব রুমে বইয়ের পাতায় ডুবে থাকা প্রতিটি মুহূর্তই তাকে এক ধাপ করে পরীক্ষার কাছে আর ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।