নোবিপ্রবি প্রতিনিধি
নতুন বছর আগমনের সাথে সাথে বিদায়ী সুর বেজে উঠেছে চলতি বছরের। ২০২৫ সাল নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) জন্য বিভিন্ন অর্জনের পাশাপাশি ছিল শোক ও বেদনার। একাধিক শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যুতে শোকাভিভূত হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের কাছে এসব মৃত্যু শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের জন্য এক গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে।
নোবিপ্রবির ফলিত গণিত বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ফাহিমা সুলতানা মারিয়া গত ২৬ সেপ্টেম্বর মারা যান। নোয়াখালীর মাইজদীর রশিদ কলোনির একটি ভাড়া বাসা থেকে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনার সময় তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত পাওয়া গেছে। ফাহিমার বাড়ি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায়। সহপাঠীরা জানান, তিনি ছিলেন শান্ত স্বভাবের ও দায়িত্বশীল একজন শিক্ষার্থী। তাঁর মৃত্যুর খবরে ক্যাম্পাসজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।
দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে মারা যান নোবিপ্রবির কৃষি বিভাগের ২০১৩–১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী পারভেজ বিন আহমেদ জনি। তিনি ২৩ মার্চ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর ধরে মুখ ও ফুসফুসের ক্যানসারে ভুগছিলেন তিনি। তাঁর বাড়ি মাদারীপুর জেলায়। মৃত্যুকালে তিনি পরিবার ও সহপাঠীদের গভীর শোকের মধ্যে রেখে যান।
সবাইকে কাঁদিয়ে সবচেয়ে আলোচিত হন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া নোবিপ্রবির ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিই) বিভাগের ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মুসলেহ শাফী। গত ৭ নভেম্বর (শুক্রবার) ভোরে চট্টগ্রামের ন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মুসলেহের বাড়ি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার চৌধুরী পাড়া এলাকায়। প্রায় দুই মাস ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন। প্রথমে জন্ডিস ধরা পড়ে, পরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন।
মুসলেহ ছিলেন ভদ্র ও দায়িত্বশীল একজন শিক্ষার্থী। ক্যাম্পাসে মসজিদের সামনে, শান্তিনিকেতনে সে আতর বিক্রি করত।আতর বিক্রি করে সুঘ্রাণ ছড়ানো শাফীর মৃত্যুতে পুরো ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এক বছরে একাধিক শিক্ষার্থীর এমন অকাল মৃত্যু নোবিপ্রবির শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। তাদের স্বরণে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সময়ে দোয়া মাহফিল ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২০২৫ সাল তাই নোবিপ্রবির ইতিহাসে একটি বেদনাবিধুর অধ্যায় হয়ে থাকবে—যেখানে হারিয়ে গেছে কয়েকটি তরুণ প্রাণ, রেখে গেছে শূন্যতা ও নিঃশব্দ দীর্ঘশ্বাস।