মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি
২১ ডিসেম্বর পালিত হচ্ছে বিশ্ব মেডিটেশন দিবস। নিয়মিত মেডিটেশন চর্চায় মন থাকে প্রশান্ত, স্নায়ু ও পেশি হয় শিথিল, কমে মানসিক চাপ এবং বাড়ে ইতিবাচক শক্তি। একই সঙ্গে হ্রাস পায় মনোদৈহিক রোগের ঝুঁকি এবং বৃদ্ধি পায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। ফলে পেশা, পরিবার ও সমাজ—সব ক্ষেত্রেই মানুষ হয়ে ওঠে আরও সুস্থ, সচেতন ও মানবিক।
মনকে ভালো রাখার মধ্য দিয়েই জীবনের সব দিক সুন্দর রাখার আশাবাদ ও প্রত্যয় নিয়ে রোববার দেশব্যাপী পালিত হচ্ছে বিশ্ব মেডিটেশন দিবস। জাতিসংঘ ২০২৪ সালে ২১ ডিসেম্বরকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বিশ্ব মেডিটেশন দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। এই ঘোষণার মাধ্যমে মানসিক ও শারীরিক সুস্বাস্থ্যকে একটি সার্বজনীন অধিকার হিসেবে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।
বৈজ্ঞানিক গবেষণার ভিত্তিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বর্তমানে মেডিটেশনকে ‘নিজের যত্ন নিজে নেওয়ার একটি কার্যকর পদ্ধতি’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং স্ট্রেস ম্যানেজমেন্টে নিয়মিত মেডিটেশন চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করছে। বাংলাদেশেও এ বিষয়ে ইতিবাচক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২০২২ সালে যোগ ও মেডিটেশনকে স্বাস্থ্যসেবার পরিপূরক হিসেবে গ্রহণ করে। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে শিক্ষা ও শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবেও মেডিটেশন চর্চা অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে দেশের অন্যতম বৃহৎ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন দেশ-বিদেশে একযোগে সকাল ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত উন্মুক্ত মেডিটেশন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এরই অংশ হিসেবে টাঙ্গাইলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সংলগ্ন মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে ঘণ্টাব্যাপী মেডিটেশন আয়োজন করে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন টাঙ্গাইল প্রি-সেল।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। প্রশান্তির লক্ষ্যে সবাই একসঙ্গে মেডিটেশনে আত্মনিমগ্ন হন—যাঁরা বিশ্বাস করেন, মন ভালো থাকলেই সব ভালো। সম্মিলিত কণ্ঠে ভালো থাকার প্রত্যয় ঘোষণার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর উপস্থিত সবাই নীরবে ডুবে যান নিজের ভেতরে। উপলব্ধি করেন—ব্যক্তির মন যদি ভালো থাকে, মনে যদি প্রশান্তি থাকে, তাহলেই পরিবার, সমাজ এবং সমগ্র বিশ্বে বিরাজ করবে অনাবিল শান্তি।
বিশ্ব মেডিটেশন দিবসকে কেন্দ্র করে আরও বেশি মানুষ যেন ভালো থাকার এই যাত্রায় যুক্ত হন—এমন প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেন আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীরা।