মাহবুবুর রহমান
বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি প্রতিনিধি
উপকূলীয় জীবন-জীবিকা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে দেশের তরুণ গবেষকদের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতায় নজরকাড়া সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি (BMU)। সম্প্রতি আয়োজিত জাতীয় কোস্টাল কনভেনশন ২০২৫ পোস্টার কম্পিটিশনে প্রথম রানার্সআপ হওয়ার গৌরব লাভ করেছে মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির দুই শিক্ষার্থীর একটি দল।
নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড অফশোর ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের নাদিয়া সুলতানা এবং ওশানোগ্রাফি অ্যান্ড হাইড্রোগ্রাফি বিভাগের রনিত কুমার রায় তাঁদের যৌথ গবেষণামূলক পোস্টার ‘সোয়াচ অফ নো গ্রাউন্ড: হিমালয় আর্কাইভ এবং সিটাসিয়ান অভয়ারণ্য সংরক্ষণ’ উপস্থাপন করেন। জুরি বোর্ড এই গবেষণা ও বিশ্লেষণের ভূয়সী প্রশংসা করে।
১৩ ডিসেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় নির্বাচিত পোস্টারগুলোর চূড়ান্ত প্রেজেন্টেশন। এতে শিক্ষার্থীরা তাদের গবেষণাভিত্তিক ধারণা ও প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন।
এই সাফল্য প্রসঙ্গে মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী নাদিয়া সুলতানা জানান, “সোয়াচ অফ নো গ্রাউন্ড সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা ব্লু ইকোনোমি সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। এই কনভেনশন জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও প্রকৃতিনির্ভর উদ্ভাবনের সুযোগ করে দিয়েছে।”
উল্লেখ্য, গভীর সমুদ্রখাদ ‘সোয়াচ অফ নো গ্রাউন্ড’ ডলফিন, তিমি ও পরপাসসহ অসংখ্য সামুদ্রিক প্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত এবং এটি দেশের ব্লু ইকোনমির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন নির্বাচিত হয় পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এর প্রতিনিধিত্বকারী দল।
অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানসহ উপকূলীয় অঞ্চল নিয়ে কর্মরত দেশের খ্যাতনামা গবেষক, নীতিনির্ধারক ও মান্যগণ্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা মনে করেন, এই প্ল্যাটফর্মটি উপকূলীয় বাংলাদেশের টেকসই ভবিষ্যৎ গঠনে তরুণ গবেষকদের উৎসাহিত করবে।