সাব্বির রহমান রাব্বীল, যবিপ্রবি প্রতিনিধি :
“যবিপ্রবিতে ১৮৫ কোটি টাকার টেন্ডারে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ” শিরোনামে গত রবিবার (১৯ এপ্রিল) দৈনিক মানবজমিনের অনলাইনে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন অধ্যাপক ড. মো. আলম হোসেন। প্রতিবাদ লিপিতে তিনি সংবাদটি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেছেন।
প্রতিবেদনের বেশ কিছু মিথ্যা ও ভিত্তিহীন কথার প্রেক্ষিতে প্রতিবাদ লিপিতে অধ্যাপক ড. মো. আলম হোসেন কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করেন।
প্রথমত, আইটি ভবন নির্মাণে ১৮৫ কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়েছে, যেখানে প্রকল্পের নির্ধারিত বাজেট ১৫৯ কোটি টাকা।
দ্বিতীয়ত, প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যবিপ্রবির সাবেক উপাচার্য ড. আনোয়ার হোসেন অধ্যাপক ড. আলম হোসেনকে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেন। তবে ড. আলম জানান, তিনি কখনোই এই প্রকল্পের পিডি ছিলেন না। শুরুতে কুয়েটের একজন অধ্যাপক এবং পরে একজন বিসিএস কর্মকর্তা এ দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
তৃতীয়ত, ড. আলমের দীর্ঘদিন অনুপস্থিতির দাবি করা হয়েছে। কিন্তু তিনি জানান, তিনি নিয়মিত বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং একাডেমিক কমিটির সভায় অংশগ্রহণ ও শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে অংশগ্রহন করেছেন।
চতুর্থত, আইটি এক্সিলেন্সি ভবনের ড্রয়িং, ডিজাইন ও BOQ শেলটেক প্রস্তুত করে এবং পরে কুয়েটের ভেটিং শেষে পিপিআর ২০২৫, BNBC ও PWD Rate Schedule অনুযায়ী চূড়ান্ত করা হয়। ইজিপি টেন্ডারে নতুন ঠিকাদার অংশ নিতে পারে না এমন অভিযোগ সম্পুর্ণ ভিত্তিহীন। কেননা, এটি এডিবি গাইডলাইন ও সরকারি বিধি মেনে, বিশেষজ্ঞদের দ্বারা পর্যালোচনা করে যথাযথ অনুমোদনক্রমে প্রকাশিত হয়েছে। এবং টেন্ডারের বিডিং ডকুমেন্টে আরোপিত শর্তসমূহ এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক যাচাই-বাছাই করে অনাপত্তি পত্র (NOC) প্রদান করে। ইজিপিতে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের জন্য বিধি অনুযায়ী সাধারণ শর্তাবলীই আরোপ করা হয়েছে। এখানে নিয়মের কোন ব্যত্যয় হয়নি। কাজেই ড. আলম কিংবা সংশ্লিষ্ট কেউই যথাযথ বিধির বাইরে টেন্ডারে অংশগ্রহণের কোন শর্ত আরোপ করেনি। তাই টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম বা পক্ষপাতিত্ব হয়নি।
পঞ্চমত, প্রতিবেদনে ১০০% কাজের অভিজ্ঞতা চাওয়ার দাবি করা হয়েছে কিন্তু বাস্তবে পিপিআর ২০২৫ অনুযায়ী ৮০% অভিজ্ঞতাই চাওয়া হয়েছে। নতুন ঠিকাদারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকারি,বেসরকারি উভয় কাজের অভিজ্ঞতা গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে এবং এ বিষয়ে সংশোধনীও জারি করা হয়েছে। তাই পক্ষপাতিত্ব, ফ্যাসিবাদী প্রভাব বা পিপিআরের শর্ত পরিবর্তনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।