নোবিপ্রবি প্রতিনিধি :
যুক্তরাষ্ট্রের লিন সিটি-এর মানবাধিকার কমিশনে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়(নোবিপ্রবি)-এর সাবেক শিক্ষার্থী ড. তানভীর মুরাদ। তিনি নোবিপ্রবির ফার্মেসি বিভাগের চতুর্থ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের লিন সিটির ওয়ার্ড-থ্রির বাসিন্দা ড. তানভীর মুরাদ গত ১৫ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন বলে জানা গেছে। এ পদে নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে তিনিই প্রথম মুসলিম এবং বাংলাদেশি, যা নোবিপ্রবি পরিবারের জন্য এক গর্বের অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
একই সময়ে মানবাধিকার কমিশনে নিয়োগ পাওয়া অন্য চারজন কমিশনার হলেন— জেফ লেফাতা হেমানডেজ, জেনি ক্লার্ক, মিশেল এহেম এবং ক্রিস্টোফার গিলরেইন।
ড. তানভীর মুরাদ জানান, এই মানবাধিকার কমিশন লিন সিটির বাসিন্দাদের কাছ থেকে যেকোনো ধরনের অসদাচরণ, অপব্যবহার, বৈষম্য, ক্ষতি, ভাঙচুর বা অন্যায় সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ করতে পারে। অভিযোগের ভিত্তিতে একজন কমিশনার এককভাবে বা স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তায় তদন্ত পরিচালনা করেন এবং সেই অনুযায়ী ভুক্তভোগীদের জন্য রায় প্রদান করা যেতে পারে। পাশাপাশি, সংলাপের মাধ্যমেও অনেক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, কমিশন শহর, রাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রীয় আইনের অধীনে কাজ করবে এবং প্রয়োজনে এসব মামলা সরাসরি আদালতে প্রেরণ করতে পারবে। কমিশনের সদস্যদের শহরের কর্মকর্তা হিসেবে গণ্য করা হয়।
একজন কমিশনার হিসেবে ড. তানভীর মুরাদ মেয়র ও স্কুল কমিটির সঙ্গে কাজ করবেন, যাতে নাগরিকদের মধ্যে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি, মানবাধিকার সংক্রান্ত শহরের নীতিনির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়াতেও কমিশনারদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে।
মূলত এই মানবাধিকার কমিশনের কাজ হলো—
বেআইনি আচরণ, হয়রানি ও বৈষম্যের অভিযোগ তদন্ত করা; নাগরিক অধিকার সম্পর্কে জনসাধারণকে তথ্য সরবরাহ করা; শিক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে মানবাধিকার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
এছাড়াও কমিশন স্থানীয়, রাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রীয় আইন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন পৌর বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে। মেয়র এবং লিন সিটি কাউন্সিলের সঙ্গে লিখিতভাবে মানবাধিকার সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করে এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করে।
পৌরসেবার ক্ষেত্রে মানবাধিকার বিষয়ক সংবেদনশীলতা বাড়াতে বিভিন্ন বিভাগ ও বোর্ডের সঙ্গে কাজ করা, এবং বিভিন্ন জাতিগত গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী সম্প্রদায় ও সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করাও কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
নোবিপ্রবির একজন সাবেক শিক্ষার্থীর এমন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে দেখা হচ্ছে।