নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকার রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন সাবেক ছাত্রদল নেতা হাবিবুর রশীদ হাবিব। সাম্প্রতিক নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী তাসনিম জারাকে পরাজিত করে তিনি শুধু একটি আসনই জিতেননি, বরং দলের তৃণমূলভিত্তিক রাজনীতির শক্ত উপস্থিতির বার্তাও দিয়েছেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, একসময় যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী জীবনের সুযোগ ছেড়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হন তিনি। ২০১৩-১৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় গ্রিন কার্ড ত্যাগ করে দেশে ফেরেন। আন্দোলন-সংগ্রামের সেই সময় গুলিবিদ্ধ হওয়াসহ একাধিকবার গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা তার। দলের নেতাকর্মীরা বলছেন, কঠিন সময়ে যারা রাজপথে ছিলেন, তাদের একজন ছিলেন হাবিবুর রশীদ।
প্রচার-প্রচারণায়ও ছিল ভিন্নতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক বড় প্রচারণা, অর্থের ঝলকানি বা চটকদার আয়োজনের বদলে তিনি বেছে নেন ঘরে ঘরে যোগাযোগের কৌশল। ভোটারদের উদ্দেশে তার বক্তব্য ছিল সরল—নিজেকে “মাটির সন্তান” পরিচয়ে তুলে ধরে স্থানীয় পর্যায় থেকে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সরল ও প্রত্যক্ষ যোগাযোগই ভোটারদের আস্থা অর্জনে বড় ভূমিকা রেখেছে।
দলীয় মহলে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও ঢাকার রাজনীতির কৌশলগত পরিকল্পনা। প্রবীণ নেতৃত্বের বয়স ও স্বাস্থ্যগত বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে নতুন নেতৃত্ব তৈরির প্রয়োজনীয়তা জোরালো হচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ভাষ্য, ঢাকার রাজনীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগামী দশকে শক্তিশালী ও মাঠপর্যায়ে পরীক্ষিত নেতৃত্ব গড়ে তোলা জরুরি।
এই প্রেক্ষাপটে হাবিবুর রশীদকে সম্ভাবনাময় নেতা হিসেবে দেখছেন অনেকেই। তাদের মতে, তাকে প্রশাসনিক ও মন্ত্রিসভা পর্যায়ের অভিজ্ঞতায় যুক্ত করা গেলে ভবিষ্যতে বৃহত্তর দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত করা সম্ভব হবে।
সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফল ঢাকার রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে—তৃণমূলসংযোগ, দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস এবং ব্যক্তিগত বিশ্বাসযোগ্যতা এখনো ভোটের মাঠে কার্যকর উপাদান। আগামী দিনের রাজনীতিতে এই বাস্তবতা কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।