খুবি প্রতিনিধি
মো: ফাহাদ হোসেন সাজিদ
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় মানেই শুধু একাডেমিক ভবন, ক্লাসরুম কিংবা রুটিনে বাঁধা জীবন নয়। এই ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য ছড়িয়ে আছে তার নীরবতায়, প্রকৃতির ছোঁয়ায় আর শিক্ষার্থীদের অনুভবের ভাঁজে ভাঁজে। ঠিক এমনই এক অনুভবের জায়গা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকসাইড যেখানে শব্দের চেয়ে অনুভূতিই বেশি কথা বলে।দিনের যেকোনো সময় লেকসাইডে গেলে দেখা যায় ভিন্ন ভিন্ন গল্প। কেউ একা বসে নিজের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে, কেউ হাঁটছে ধীরে, আবার কেউ বন্ধুদের সঙ্গে হাসি-আড্ডায় মগ্ন। পড়াশোনার চাপ, ভবিষ্যৎ চিন্তা কিংবা ব্যক্তিগত ক্লান্তি সবকিছুর মাঝখানে এই লেকসাইড যেন এক টুকরো প্রশান্তির আশ্রয়। ২০২১ সালে তৎকালীন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান এই লেকসাইড ওয়াকওয়েটি শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করেন। এর নকশা প্রণয়ন করেন আর্কিটেকচার ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. সিরাজুল হাকিম।লেকের জলে আকাশের প্রতিচ্ছবি, বাতাসে নড়েচড়ে ওঠা ঘাস আর দূরে ভেসে থাকা পাখিরা মিলেমিশে তৈরি করে এক শান্ত দৃশ্যপট। এখানে এসে অনেকেরই মনে হয় ব্যস্ত সময়টা যেন হঠাৎ থেমে গেছে। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের এক শিক্ষার্থী বলেন, “দিনভর ক্লাস আর অ্যাসাইনমেন্টের পর মাথাটা যখন ভার হয়ে যায়, তখন লেকসাইডে কিছুক্ষণ থাকলেই নিজের ভেতরটা আবার গুছিয়ে নিতে পারি।”এই জায়গাটি শুধু বিশ্রামের নয়, স্মৃতি জমা রাখারও। কারও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম অনুভব, কারও না বলা কষ্ট, আবার কারও বন্ধুত্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল মুহূর্তগুলো জড়িয়ে আছে এই লেকসাইডে। সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের এক শিক্ষার্থীর ভাষায়, “লেকসাইড আমার কাছে শুধু একটা জায়গা না, এটা আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের একটা অংশ।”শুধু শিক্ষার্থীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় লেকসাইডের টান। ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরাও এখানে এসে থেমে যান। খুলনার বাইরে থেকে আসা এক দর্শনার্থী বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় মানেই এত শান্ত আর সাজানো একটা পরিবেশ এটা ভাবিনি। লেকসাইডটা দেখে মনে হলো, এখানকার শিক্ষার্থীরা সত্যিই ভাগ্যবান।”বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী কাজী রিয়াজুস সলেহীন মাহিন বলেন, “ক্লাসের ফাঁকে লেক পাড়ে কিছুক্ষণ বসলে মানসিক চাপ অনেকটাই কমে যায়। এটি খুবির সবচেয়ে শান্ত জায়গাগুলোর একটি।বিকেলের সময় লেক পাড়ে বসে পানির ঢেউ আর হালকা বাতাস উপভোগ করলে মনটা স্বাভাবিকভাবেই ভালো হয়ে যায়।”বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী হিদায়েতুল ইসলাম সম্রাট বলেন, “লেক পাড় শুধু সৌন্দর্যের জায়গা নয়, এটি আমাদের বন্ধুত্ব ও আড্ডার স্মৃতির অংশ। ক্যাম্পাস জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সময় এখানেই কেটেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই লেক পাড় আমার প্রিয় জায়গা। নতুন পরিবেশে এটি আমাকে দ্রুত মানিয়ে নিতে সাহায্য করেছে।”একটি বিশ্ববিদ্যালয় কেবল পাঠ্যক্রমে নয়, এমন জায়গার মধ্য দিয়েই শিক্ষার্থীদের মনে জায়গা করে নেয়। লেকসাইড তেমনই এক অনুভব যেখানে সময় থামে না, কিন্তু স্মৃতি থেকে যায়। ক্লাস শেষ হবে, ক্যাম্পাস ছেড়ে যেতে হবে তবু লেকসাইডের নীরবতা বহুদিন ধরে কথা বলে যাবে স্মৃতির ভেতর।