সাভারের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড রিসার্চ (নিটার)-এ অনুষ্ঠিত হয়েছে রিসার্চ ফেয়ার ২০২৬। “Advanced Materials and Technology for Sustainable Development” শীর্ষক এই গবেষণা মেলাটি আয়োজন করে নিটারের সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিলেশন (সিআরআইআর)।বুধবার (২৯ জানুয়ারি ২০২৬) নিটার কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত এই মেলায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবিদ, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন এবং তাদের গবেষণা ও উদ্ভাবন উপস্থাপন করেন। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটির সূচনা করা হয়। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. উপমা কবির এবং ফলিত রসায়ন ও রাসায়নিক প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল খায়ের মালিক। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন মেলার সংগঠক কমিটির আহ্বায়ক ও সিআরআইআরের প্রধান ড. মো. আবুল কালাম।মেলার প্রধান বক্তা হিসেবে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হোন মালয়েশিয়ার সানওয়ে ইউনিভার্সিটির গবেষণা অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান। তিনি কর্মজীবনে সাফল্য অর্জনে গবেষণা ও প্রকাশনার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং শিক্ষার্থীদের উচ্চতর গবেষণায় আগ্রহী হওয়ার আহ্বান জানান।রিসার্চ ফেয়ারে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সায়েন্স ও ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা ২৫টি পোস্টার এবং ৩ মিনিটের মৌখিক উপস্থাপনার মাধ্যমে তাদের গবেষণা উপস্থাপন করেন। টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে কাঠালের আঠা থেকে টেকসই প্রাকৃতিক রজন তৈরি, ড্রাসেনা ও গোলাপ ফাইবার ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব হাইব্রিড কম্পোজিট, আগাভি গাছের পাতা থেকেই ফাইবার রং করার স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি এবং মাছের গ্লাটিন ও পলিভিনাইল অ্যালকোহল দিয়ে তৈরি ন্যানোকম্পোজিট ফিল্ম উপস্থাপিত হয়।কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগে হাতে লেখা প্রেসক্রিপশন থেকে ওষুধ শনাক্তে হাইব্রিড OCR-XAI পদ্ধতি, আইওটি সেন্সর ও এক্সপ্লেইনেবল এআই ব্যবহার করে আগুন শনাক্তকরণ, চোখের পলক সেন্সরের মাধ্যমে চালকের ক্লান্তি শনাক্তকরণ এবং বাংলা সংবাদ শিরোনামের ভাব বিশ্লেষণের জন্য নতুন ডেটাসেট ও মডেল প্রদর্শিত হয়। ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে মেশিন লার্নিং সংযুক্ত সৌরচালিত ইলেকট্রিক গাড়ি চার্জিং স্টেশন, নিটারের বিদ্যুৎ বিল কমাতে গভীর শিক্ষণভিত্তিক মডেল এবং সাঙ্গু নদীর মোহনায় ৮০ মেগাওয়াট জোয়ার শক্তি কেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পর্কিত গবেষণা উপস্থাপন করা হয়।আয়োজকরা জানান, এই রিসার্চ ফেয়ার গবেষণা প্রদর্শন ও মতবিনিময়ের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে। অংশগ্রহণকারীদের মতে, এ ধরনের আয়োজন তরুণ গবেষকদের মধ্যে গবেষণাভিত্তিক চিন্তা ও উদ্ভাবনী সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।