বুটেক্স প্রতিনিধি
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স) ক্যাম্পাসে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া শহীদদের স্মরণে এবং তাদের প্রতি সংঘটিত অন্যায়ের প্রতিবাদস্বরূপ একটি শহীদ স্তম্ভ স্থাপন করা হয়েছে। ২৭ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) বেলা ২টার দিকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বুটেক্স জুলাই কালচারাল সেন্টারের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের সামনে এই শহীদ স্তম্ভটি স্থাপন করা হয়।
জুলাই কালচারাল সেন্টারের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে শহীদদের আত্মত্যাগ ও চিন্তা-চেতনা সকলের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে এই শহীদ স্তম্ভ স্থাপন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাচের সাধারণ শিক্ষার্থীরা আর্থিক সহায়তা ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে পাশে দাঁড়ান।
এই শহীদ স্তম্ভে ভারতের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে নিহত শহীদ আবরার ফাহাদ ও শহীদ ওসমান হাদির নাম এবং তাঁদের আত্মত্যাগের স্মৃতি সংরক্ষণ করা হয়েছে। শহীদদের আদর্শ, সাহস, দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের চেতনা শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
গতবছর ২১ ডিসেম্বর স্তম্ভটি স্থাপন করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের কথা বিবেচনা করে তা পিছিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে প্রশাসনের সাথে বিভিন্ন সময় যোগাযোগ করা কিংবা অনুমতি নেওয়ার ব্যাপার গুলোতে বারংবার অনিচ্ছা ও উপেক্ষা দেখতে পেয়েছে শিক্ষার্থীরা। প্রশাসনের প্রায় প্রতিটি স্তরেই তারা স্তম্ভ স্থাপনের ব্যাপারে অসহযোগিতা লক্ষ্য করেছে বলে জানায় শিক্ষার্থীরা। ২৭ ডিসেম্বর সমাবর্তনের জন্য লাগানো ফটোবুথ একমাস হয়ে যাওয়া স্বত্ত্বেও খুলা হয়নি। অবশেষে চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি সাধারণ শিক্ষার্থীরা স্ব-উদ্যোগী হয়ে ফটো বুথ খুলে স্তম্ভটি স্থাপন করে।
ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শোয়াইব আল জান্নাত বলেন, “বাংলাদেশে প্রকৃত পরিবর্তনের জন্য শুধু গণঅভ্যুত্থান নয়, প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি সাংস্কৃতিক আন্দোলন—এই সত্যটি উপলব্ধি করেছিলেন শহিদ শরিফ ওসমান বিন হাদি। সে লক্ষ্যেই তিনি একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলনের যাত্রা শুরু করেন। তাঁকে হত্যা করে সেই যাত্রা থামাতে চাওয়া হলেও তাঁর আদর্শ আজ ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়েছে।এই প্রত্যয় থেকেই ‘বুটেক্স জুলাই কালচারাল সেন্টার’-এর পথচলা শুরু, যার অংশ হিসেবে আমরা ‘ভারতীয় আগ্রাসন বিরোধী শহিদ স্তম্ভ’ স্থাপন করেছি। এটি বুটেক্সের ইতিহাসে ঐক্য, সাহস ও ত্যাগের এক নতুন অধ্যায়। আমরা চাই প্রশাসনের আন্তরিকতা, শিক্ষার্থীদের ঐক্য এবং শহিদ ওসমান হাদির বিচার। বিচারহীনতার সংস্কৃতি আমরা ভাঙতে চাই। হাদি ভাইয়ের শুরু করা আন্দোলন আজীবন এগিয়ে নিতে হবে—এই আমাদের অঙ্গীকার।”
এ বিষয়ে জুলাই কালচারাল সেন্টারের কর্মী ও ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মিরাজুল ইসলাম চৌধূরী বলেন, “বুটেক্সে ‘জুলাই কালচারাল সেন্টার’-এর মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের অধিকার-সচেতন করে তোলা। ওসমান হাদি ও আবরার ফাহাদের আত্মত্যাগ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সংগঠনটি সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে প্রতিবাদের চেতনা জাগ্রত করতে চায় এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসী কণ্ঠ গড়ে তুলতে চায়। তাদের লক্ষ্য এমন একটি সমাজ নির্মাণ, যেখানে কেউ অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরব থাকবে না এবং সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করেই এই স্তম্ভটি স্থাপিত হয়েছে। শহীদদের চেতনা সকল ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এবং তাদের প্রতি হওয়া অন্যায়ের বিচার সুনিশ্চিত করতেই জুলাই কালচারাল সেন্টারের এই ছোট্ট প্রচেষ্টা।”