মো: ইকরাম মাহমুদ প্রধান
জাবিপ্রবি প্রতিনিধি
জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবিপ্রবি) গনিত বিভাগে ঘনঘন সেমিস্টার ফি, ভর্তি ফি এবং হল ফি আদায়ের ঘোষণায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে দফায় দফায় কয়েক হাজার টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশে বিপাকে পড়েছেন অনেক শিক্ষার্থী। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য বারবার বাসা থেকে টাকা চাওয়া এবং পরীক্ষার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে এই আর্থিক ও মানসিক চাপ মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ৩১ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিলের মধ্যে ২য় বর্ষ ১ম সেমিস্টারের পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য ১৯৩০ টাকা জমা দিতে হয়েছে। এই ফি জমা দেওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই ৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় নতুন এক নোটিশে জানানো হয় যে, ৬ এপ্রিল থেকে ১৬ এপ্রিলের মধ্যে দ্বিতীয় বর্ষের ভর্তি ফি বাবদ আরও ২৩০০ টাকা জমা দিতে হবে।
গতকাল(১২ এপ্রিল) পুনরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত একটি নোটিশে নতুন করে নির্ধারিত হল ও সেমিস্টার ফি’র তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে সেমিস্টার পরীক্ষা শুরু হতে যাওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে এমন ঘনঘন নোটিশ এবং টাকার চাপে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতি মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
ফি কাঠামো:
নতুন নোটিশ অনুযায়ী—
এককালীন ফি (আবাসিক): ১৩৫০ টাকা
এককালীন ফি (অনাবাসিক): ৮০০ টাকা
সেমিস্টার ফি (আবাসিক): ১১২৫ টাকা
সেমিস্টার ফি (অনাবাসিক): ৩২৫ টাকা
ফলে মোট—
আবাসিক শিক্ষার্থী: ২৪৭৫ টাকা
অনাবাসিক শিক্ষার্থী: ১১২৫ টাকা
এতে পূর্বে পরিশোধিত পরীক্ষা ফি (১৯৩০ টাকা) ও ভর্তি ফি (২৩০০ টাকা) যুক্ত করলে—
আবাসিক শিক্ষার্থীদের মোট ব্যয় দাঁড়ায়: ৬৭০৫ টাকা
অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের মোট ব্যয় দাঁড়ায়: ৫৩৫৫ টাকা। যা অন্যান্য অনেক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় অনেক বেশি বলে দাবি করছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি ও চাপ
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, স্বল্প সময়ের ব্যবধানে ধারাবাহিকভাবে একাধিক ফি পরিশোধের কারণে তাদের বারবার পরিবারের কাছে টাকা চাইতে হচ্ছে, যা অনেকের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করছে।
এদিকে, আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে সেমিস্টার পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, ফি সংক্রান্ত এই জটিলতায় অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের বক্তব্য
এই বিষয়ে গনিত বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী ফাহাদ বলেন, ” পরীক্ষার আগ মুহূর্তে এইরকম ফি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে মাথা ঘামানো অনেক ভোগান্তি তৈরি করছে, আর এতো রকম ফি দিয়েও ডিপার্টমেন্টের কোন রকম উন্নতি দেখতে পারছি না, তাহলে কি লাভ এই ফি দিয়ে”।
একই বিষয় নিয়ে গনিত বিভাগের ২য় বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী জামিল বলেন,” বার বার দফায় দফায় এইরকম বাসা থেকে টাকা নেয়া সমস্যার। আর পরীক্ষার মধ্যে এইসব চিন্তা নেয়া যায়না। পড়ব কখন? আর এইসব কাগজ সাক্ষর করাবো কখন? “
শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা
গণিত বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীদের চাওয়া, ভবিষ্যতে যেন যেকোনো ফি আদায়ের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সময় এবং অন্তত এক মাস আগে নোটিশ প্রদান করা হয়। পরীক্ষার আগ মুহূর্তে এভাবে দফায় দফায় আর্থিক ও মানসিক চাপ তৈরি না করে একটি সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়া অনুসরণের দাবি জানিয়েছেন তারা। শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের এই ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে আগামীতে আরও দায়িত্বশীল ও শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে
উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ আন্দোলনের মাধ্যমে ভর্তি এবং সেমিস্টার ফি কিছুটা কমিয়ে এই পর্যায়ে আনা সম্ভব হয়েছিল।